মুন্সীগঞ্জে অবৈধ অটো ও মিশুকের গতিতে বাড়ছে যানজট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:১৪

মুন্সীগঞ্জ শহরে অবৈধ ব্যাটারী চালিত অটো ও মিশুকের অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। 

অপরদিকে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ সকল যানবাহনের অনুমোদন না থাকায় ট্যাক্স হারাচ্ছে সরকার। বিভিন্ন অজুহাতে চালকদের হয়রানী করছে ট্রাফিক। আর হয়রানী থেকে রক্ষা পেতে আইনের আওতায় আসতে চায় অটো ও মিশুক চালকরা। 

মুন্সীগঞ্জের মতো ছোট একটি শহরে বর্তমানে ব্যাটারী চালিত অটো ও মিশুক চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার হার যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে যানজট। 

এ সকল যানবাহনের চালকদের কোন প্রশিক্ষণ নেই এবং যানবাহনের নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। দুর্ঘটনা হলে এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না। অপরদিকে যানবাহনটি হারিয়ে গেলেও কোন কাগজপত্র না থাকায় থানায় কোন অভিযোগ দিতে পারে না চালকরা। দুর্ঘটনা ঘটারপর চালকের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। পরে গাড়ির মালিক থানায় এসে পুলিশের সাথে মিলমিশ করে তা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এসব যানচালকদের অধিকাংশের বাড়ি বৃহত্তর রংপুর জেলায়। এরা আলুর মৌসুমে মুন্সীগঞ্জে এসে কৃষি মজুরের কাজ করতো। এদের অনেকেরই অক্ষর জ্ঞান নেই। এরা ট্রাফিক আইনের কোন নিয়মই জানে না এবং মেনে চলার চেষ্টাও করে না। ইচ্ছেমতো সিগনাল না দিয়েই যেখানে সেখানেই গাড়ি ঘুড়ায় এবং পার্কিং করে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। এরা অনেক সময় বামপাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে ওভার টেক করে থাকে। এ ছাড়া রাতের বেলায় অনেক গাড়িতেই হেড লাইট জ্বালানো হয় না। 

সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে কয়েকজন অটোচালক ও মিশুক চালকদের সাথে আলাপকালে জানা যায় কোর্ট মোড়, কাচারী চত্ত্বর, পেট্রোলপাম্প, সিপাহীপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন স্ট্যান্ড থেকে প্রতিটি ব্যাটারী চালিত অটো থেকে লাইন ম্যানের মাধ্যমে ১০/২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। ফলে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে অটোবাইকের সারি দেখা যায় এবং ট্রাফিক এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। 

অপরদিকে মিশুক গাড়ি আটক করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করছে ট্রাফিক। 

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায় এ সকল মিশুক ও অটোবাইকের কোনটিরই পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন অনুমোদন নেই। ফলে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অথচ এ সকল যানবাহন থেকে দৈনিক হাজার হাজার আদায়কৃত টাকা বিভিন্ন মহলের পকেটে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পায়ে চলা রিক্সার প্লেট বাবদ ট্যাক্স পেত। কিন্তু এ সকল মিশুক ও ব্যাটারী চালিত অটো থেকে কোন রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে কিছুকিছু গ্যারেজ বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারী চার্জ করছে নিয়মিত। 

অটো ও মিশুক চালক নজরুল, আরিফ ও কামালসহ অনেকেই জানায় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের গাড়ির কাগজপত্রের ব্যবস্থা করা হলে বিভিন্ন মহলের হয়রানী থেকে রক্ষা পাবে। 

মুন্সীগঞ্জ টিআই (প্রশাসন) কায়সার-ই-আলম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যেসকল অটো ও মিশুক রাতের বেলায় হেড লাইট না জ্বালায়, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক ও যারা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে তাদেরকে আমরা জরিমানা করে থাকি। 
এ বিষয়ে পঞ্চসার ইউপি সচিব এইচ.এম রেজাউল করিম তুহিন বলেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টি কোন নীতিমালা না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। 

মুন্সীগঞ্জ এএসপি (ট্রাফিক) মোহাম্মদ নাজমুর রায়হানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মিশুক ও অটো বাইকের অনুমোদনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের। তবে শৃঙ্খলার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) এস.এম শফিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মুন্সীগঞ্জ জেলায় ইদানিং অটো ও মিশুকের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। ইতিমধ্যেই এ সকল অটো ও মিশুকের অনুমোদনের ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ ও মিরকাদিম পৌরসভার সচিবদের সাথে আলাপ হয়েছে। জাতীয়ভাবে যেহেতু এসকল যানবাহনের কোন নীতিমালা নেই। 

তাই স্থানীয়ভাবে যানবাহনগুলোর বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি না সে বিষয়ে সচিবদের কাছে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 

এবিএন/আতিকুর রহমান টিপু/গালিব/জসিম 
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ