মেলান্দহে হত্যার হুমকী দিয়ে কিশোর কে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত : আটক ১

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৭

জামালপুরের মেলান্দহে ভয়ভীতি-প্রলোভন-স্বজনদের হত্যার হুমকী অবশেষে অহরণপূর্বক স্কুল ছাত্র কিশোর ইয়াছিন ইসলাম আকাশ (১৪)কে জোর করে মুসলমান থেকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত খবরটি টক অব দ্যা মেলান্দহে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ সেপ্টেম্বর জহুরুল ইসলাম ওরফে জহিরকে (৬৫) আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে মেলান্দহের ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে শ্যামপুর গ্রামে। অপরদিকে স্কুল ছাত্র ইয়াছিন ইসলাম আকাশকে পুলিশী হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আটককৃত জহির ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামের বাবর আলীর ছেলে। জহির আশির দশক থেকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।

জানা গেছে, হতদরিদ্র আকাশের পিতা সাইফুল ইসলাম তার মা আনজুয়ারা বেগমকে রেখে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে বিদ্যাগঞ্জে বসবাস করছেন। এনিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরপর থেকেই নানা দিনমজুর আমজাদ হোসেন (৬৫) আকাশকে লালন পালন করছেন।

ওদিকে আকাশের মা আনজুয়ারা বেগম ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। আকাশ শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। কিছুদিন যাবৎ জহির নামে এক খ্রিষ্টান আকাশকে খোজখবর নিতে থাকে। একপর্যায়ে চলতি মাসের প্রথম দিকে জহির আকাশকে স্কুল থেকে ডেকে ডেফলা ব্রিজে নিয়ে যায়।

সেখানে জহির আকাশকে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণের প্রস্তাব দেয়। খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ না করলে আকাশের পিতা-মাতা-নানাসহ আত্মীয়-স্বজনদের হত্যার হুমকী দেয়। খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করলে অর্থ-বিত্ত প্রদানেরও প্রলোভন দেয়। এতে সে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হতে সম্মত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আকাশকে জামালপুরে নিয়ে একদিন এক রাত রেখে দেয়।

এ সময় আকাশকে বাইবেল হাতে দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করে। এতেই শেষ নয়, আকাশের বুকে ও হাতের কব্জিতে ক্রুশ বিদ্ধ অঙ্কিত করে। পরদিন এ ঘটনাটি বাইরে জানালে আকাশের স্বজনদের হত্যার হুমকী দিয়ে এক লাখ টাকা, কোন পথে নামক একটি বইসহ ক্রুশবিদ্ধ লকেট গলায় পরিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কয়েকদিন পরেই আকাশ নিজের অনুভূতিতেই জহিরকে টাকা ও লকেট ফেরত দিয়ে খিষ্টান ধর্ম পালনে অস্বীকৃতি জানায়। এতে আকাশ ও তার স্বজনদের হত্যার হুমকী প্রদর্শন করে জহির।

এরপর থেকেই আকাশ মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার একপর্যায়ে স্কুল শিক্ষকদের নিকট ঘটনাটি প্রকাশ করলে হইচই পড়ে যায়। স্থানীয় আলেম সমাজ এবং তবলীগ জামাতের লোকসহ শত শত মানুষ আকাশের বাড়িতে ভীড় জমায়।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মেলান্দহ জামেয়া হুছাইনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও জেলা ইত্তেফাকুল ওলামার সভাপতি আলহাজ মুফতী শামসুদ্দিন বলেন-এভাবে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের অপহরণ-প্রলোভন ও হত্যার হুমকী দিয়ে জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে খ্রিষ্টান বানানোর তীব্র নিন্দা-ক্ষোভ প্রকাশসহ সমুচিত শাস্তির দাবি করছি। অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম খান জানান- আকাশের মা আনজুয়ারা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত চলছে।
 

এবিএন/শাহ্ জামাল/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ