ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অর্কিডশো : থাকছে শ্রীমঙ্গলের অর্কিড

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৭

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অর্কিডশো। আগামী ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে এই অর্কিডশো অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ অর্কিড সোসাইটি এই অর্কিডশো’র আয়োজন করেছে। দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য এই শো প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। বাংলাদেশ অর্কিড সোসাইটি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অর্কিড একটি দৃষ্টিনন্দন ফুল। ফুলের রাজ্যে এর জুড়ি মেলা ভার। সমগ্র বিশ্বে অর্কিডের সুনাম রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ফুল হচ্ছে অর্কিড। প্রাচীন চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস অর্কিডকে সেরাফুল বলে মন্তব্য করেছিলেন তার বৈচিত্র্যে বিস্মিত হয়ে। দার্শনিক প্লেটো, এরিষ্টটল, থিওফ্রাসটাস ভালোবেসে অর্কিডের নামকরণ করেছিলেন অর্কিস। পরবর্তীতে এ নামটি অর্কিড হয়েছে।

আমাদের দেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে অর্কিড পাওয়া যায়। এছাড়াও শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, বার্মা, মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়ায় অর্কিডের চাষ হয়। বাংলাদেশ অর্কিড সোসাইটির মতে, সারাবিশে^ অর্কিডের প্রায় ৩০ হাজারের বেশী প্রজাতি রয়েছে।  বাংলাদেশেও রয়েছে প্রায় ৮০ প্রজাতিরও বেশী অর্কিড।

বিশ^ব্যাপী এখন ফুলের চাহিদা ক্রমশও বাড়ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড ফুল উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত। প্রতিবছর থাইল্যান্ড পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪ কোটি ডলার মূল্যের অর্কিড রপ্তানি করে। মালয়েশিয়া, ভারত, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা অর্কিড রপ্তানিতে অনেক এগিয়ে গেছে।

আমাদের দেশে অর্কিড চাষ ও অর্কিড ফুল উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানি অসম্ভব কোন ব্যাপার নয়। ঢাকাসহ সারাদেশে বহু নার্সারি এবং ফুলের দোকান গড়ে উঠেছে। মানুষ এখন ফুলের চারাও কিনছে। এসব ফুলের দোকানে দৈনিক গড় বিক্রিও সন্তোষজনক।
জানা গেছে, তাইওয়ান এখন সবচেয়ে বড় অর্কিড রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে। এই দেশটিতে প্রতি বছর অর্কিডশো অনুষ্ঠিত হয়। সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন ও মালয়েশিয়ায় অনেক অর্কিড বাগান রয়েছে। এ দেশগুলো বাণিজিক উদ্দেশ্যে অর্কিড গার্ডেন করেছে।

এসব দেশের মতো আমাদের দেশে যে অর্কিড রয়েছে সেগুলো নিয়েই শুরু করা যায় এবং এগিয়ে যাওয়া যায়। আমাদের দেশের ময়মনসিংহ, রাজশাহী, যশোর, গাজীপুর, পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর সিলেটে অর্কিড চাষ ও ফুল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে জানা গেছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্দ্যোগে বাংলাদেশে অর্কিড চাষের উদ্দ্যোগ নিলে একদিকে যেমন হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমনি অর্কিড বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
 

এবিএন/আতাউর রহমান কাজল/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ