নুসরাত হত্যাকান্ডে রুহুল আমিন জড়িত নয় যুক্তিতর্কে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:০২

সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আজ সোমবার ১৫ আসামীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত করেছেন। এদিন দুপুরে মামলার বিচার কাজ শুরু হলে প্রথমে আদালতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে পিবিআই পরিদর্শক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ভিডিও প্রদর্শন করেন।

পরে তিনি নুসরাত অগ্নিদগ্ধের পর আসামী শাহাদাত হোসেন শামিম ও শাখাওয়াত হোসেন জাবেদের কথোকপথন ও সোনাগাজীর চরছান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন এবং ইউপি সদস্য আকবর হোসেনের সাথে শামিমের কথোকপথনের অডিও শোনান।এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আক্রামুজ্জামান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। এসময় তিনি আদালতকে জানায়,নুসরাত হত্যাকান্ডের সাথে আসামী রুহুল আমিন জড়িত নয় তবে মাদ্রাসার সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি নুসরাত অগ্নিদগ্ধের পর তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি,তার উচিত ছিলো নুসরাতের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ও ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করা।

তাছাড়া ঘটনার পরে রুহুল আমিনের কাছে শাহাদাত হোসেন শামিম ফোন করে নুসরাতের অগ্নিদগ্ধের খবর জানায় এবং তারা ফেনীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। তাদের কথোকপথন প্রমান করে রুহুল আমিন ঘটনাটির পর এ ব্যাপারে অবগত ছিলেন। এসময় আসামী পক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান বলেন, নুসরাত অগ্নিদগ্ধের পর তাকে মাদ্রাসার তহবিল ও গভর্নিং বডির সহসভাপতি হিসেবে নিজের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার জন্য রুহুল আমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আড়াই লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
পরে তিনি আসামী আফসার উদ্দিনের অপরাধের বর্ননা করে সাক্ষী ও পারিপাশ্বিকতার বিবেচনায় তার জড়িত থাকার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন আইনের রেফারেঞ্চ তুলে ধরে হত্যাকান্ডের সাথে আসামীদের পরস্পর যোগসাজস ছিলো তাহা ব্যাখ্যা করেন। মধ্যাহৃ বিরতির পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী শাহজাহান সাজু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি আদালতকে জানায়, মামলার ১২ আসামী স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় তাদের নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের যে অভিযোগ করেেেছ তাহা সত্য না, ১২ আসামীর মধ্যে ৪ জন অনুতপ্ত হয়ে রিমান্ডের আগেই আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, ৪ জন আসামী এ মামমলায় স্বীকারোক্তি দেয়নি, পিবিআই যদি তাদের নির্যাতন করতো তবে সব আসামীর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারতো।

তিনি ২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী তারিখে হাইকোর্টের বিচারপতি ঈমান আলীর একটি রায় সহ উচ্চ আদালতের আরো কয়েকটি রায়ের রেফারেঞ্চ তুলে আদালতকে বলেন, যদি নির্যাতন করেও স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় তবে সেই স্বীকারোক্তির সত্য অংশ গ্রহন করে অসত্য অংশ বাতিল করে আদালত স্বীকারোক্তি প্রদানকারীদের দন্ড প্রদান করতে পারবেন এমনকি কোন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী না থাকলেও স্বীকারোক্তি আমলে নিয়ে সাজা প্রদান করা যাবে। আসামীরা কিভাবে নুসরাতকে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে,কার কি ভুমিকা ছিলো সব কিছু অপকটে  স্বীকার করে জবানবনিন্দ দিয়েছে,একজন আসামী বাদে অপর আসামীরা ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নুসরাতকে হত্যার বিচার চেয়েছে, দেশের মানুষ এ মামলার ন্যায় বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে, আমরা ফরিয়াদি হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে নুসরাত হত্যাকারীদের সর্বোচ্ছ সাজা কামনা করছি।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামী পক্ষের আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন নয়ন আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করে আদালত মুলতবী করেন বিচারক মামুনুর রশিদ।
 

এবিএন/আবুল হোসেন রিপন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ