সিরাজগঞ্জের রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটলেও সতর্ক হচ্ছে না কর্মচারীরা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১৩

ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের সিরাজগঞ্জের রক্ষিত ও অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে একাধিক ট্রেন দূর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও সতর্ক হচ্ছে না কতিপয় কর্মচারী। শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তি সিগন্যালম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে প্রকাশ, উক্ত রেলপথের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, মুলিবাড়ী, সলপ, জামতৈল, বেতকান্দি রেলক্রসিংয়ে সিগন্যালম্যান যথানিয়মে দায়িত্ব পালন করছে না। যেকোন সময় আবারো বড় ধরণের টেনে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ স্টেশনের অদূরে অরক্ষিত বেতকান্দি রেলক্রসিংয়ে গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় বর-কনেসহ মাইক্রোবাসের ১১ জন যাত্রী নিহত হন।

এর আগে একই রেলপথের ঝাঐল ওভারব্রিজের কাছে শাহবাজপুরে গরুবোঝাই নসিমন ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ৪ গরু ব্যবসায়ী নিহত হন। এছাড়া মুলিবাড়ীতে অনেক পথচারী ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেলেও সতর্ক হচ্ছেন না রেলক্রসিংয়ের সিগন্যালে থাকা রেল বিভাগের কর্মচারীরা।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সংযোগ মহাসড়ক সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মুলিবাড়ী রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বরত ৩ জন সিগন্যালম্যান যথানিয়মে দায়িত্ব পালন করেন না। ওই শারীরিক প্রতিবন্ধীকে সিগন্যালের দায়িত্বে রেখে প্রায়ই ডিউটি ফাঁকি দিচ্ছেন দায়িত্বরতরা। এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ মুলিবাড়ী রেলক্রসিংয়ে যারা সিগন্যালম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তারা সবাই কম বেশি কাজে ফাঁকি দিয়ে থাকেন। ১’শ থেকে দেড়শ টাকা দিলেই যে কোনো সময় ওই শারিরীক প্রতিবন্ধী দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হয়। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি হারুন মজুমদার বলেন, মুলিবাড়ী রেলক্রসিংয়ে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটছে।

এ জন্য দায়িত্বরত সিগন্যালম্যানদের আরও তৎপরসহ সঠিক দায়িত্ব পালন করা উচিত। তবে বিষয়টি রেল বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জরুরী ভিত্তিতে নজরে আনা প্রয়োজন। পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের উর্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী পলাশ বলেন, ওই রেলক্রসিংয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধী কাদের নামে কোন কর্মচারী নেই।

তিনি আরো বলেন, ১৫ জুলাই অরক্ষিত বেতকান্দি রেলক্রসিংয়ে সংঘঠিত ঘটনায় ১১ জন নিহতের পর সেখানে সেড ঘর নির্মাণসহ ২ জন সিগন্যালম্যানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ১৮ জুলাই থেকে যথানিয়মে দায়িত্ব পালন করছে এবং অরক্ষিত বেতকান্দি এখন রক্ষিত রেলক্রসিং বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এবিএন/এস.এম তফিজ উদ্দিন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ