উলিপুরে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম

উলিপুর (কুড়িগ্রাম), ১৩ জুন, এবিনিউজ : কুড়িগ্রামের উলিপুরে হত-দরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত ভিজিএফ‘র চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগিদের তালিকা প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়েই তড়িঘড়ি করে বিতরণ শুরু করেন এক ইউপি চেয়ারম্যান।

হত-দরিদ্রদের চাল চেয়ারম্যানের লোকজন ও ফড়িয়াদের মাধ্যমে উত্তোলনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে যান এবং চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে, আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকার অতি-দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে ৬ হাজার ১৭৮ জনের মাঝে ১০ কেজি করে ৬১.৭৮০ মেঃটন চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়।

সে মোতাবেক ঐ ইউপি’র চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রস্তুতকৃত তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বাক্ষর সাপেক্ষে চাল বিতরণের কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান তালিকা প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়েই তার মনগড়া তালিকা দিয়ে গতকাল বুধবার সকালে তড়িঘড়ি করে ৩নং ও ৮নং ওয়ার্ডের ৬ শত ৬০ জনের মাঝে চাল বিতরণ করেন।

ভিজিএফ‘র চাল চেয়ারম্যানের লোকজন ও ফড়িয়াদের মাধ্যমে উত্তোলন করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন এবং অনুমোদিত তালিকার মাধ্যমে চাল বিতরণের নির্দেশনা দেন। এসময় বিতরণস্থলে চাল কিনতে আসা ব্যবসায়ীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মমতাজ পারভীন অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য সব সময় চেষ্টা করছেন। এ কারনে সরকারী বরাদ্দের ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হলেও তিনি ব্যক্তিগত নাম দিয়ে ব্যানার টানিয়ে দেন।

গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খোকা বলেন,ইউএনও স্যার প্রথম পাতায় আর শেষ পাতায় সিন করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তালিকা ফটোকপি করে দেবার কথা বলে আর দেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ভিজিএফ নিয়ে কোন অনিয়ম ছাড় দেয়া হবে না।

এবিএন/আব্দুল মালেক/জসিম/তোহা