চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ অব্যাহত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৮, ১৭:৩৩

চট্টগ্রাম, ১৩ জুন, এবিনিউজ : চট্টগ্রামে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নগরীর চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অবৈধ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম। কয়েক দিন ধরে অব্যাহত রেখেছে এসব পাহাড়ে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ অভিযান।

ভুমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের প্রাণহাণির আশংকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। তবে উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোর যাতে কোন প্রকার ক্ষতিসাধন না হয় তার জন্য নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে ৭টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংস্থার মালিকানাধীন পাহাড়গুলো বহিরাগতরা দখল করে বসবাস করলেও এসব সংস্থার কোন খবর নাই বলে অভিযোগ করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন। এসব পাহাড়গুলোর পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ বসবাস করলেও পাহাড়গুলো নিজেদের দখলে নিতে পাহাড়ের মালিকদের কোন উদ্যোগ নেই বলে জানান তিনি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের রুপ আরো মহামারী আকার ধারণ করছে।

বুধবার দুপুরে নগরীর টাইগারপাস এ কে খান পাহাড়, পিডব্লিওডি ও রেলওয়ের পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরতদের উচ্ছেদ অভিযানে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

এসময় তিনি আরো বলেন এসব পাহাড়গুলো একদিনে দখল হয়নি। দিনের পর দিন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার অসচেতনতায় এভাবে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করার সুযোগ পাচ্ছে দেশের নি¤œ আয়ের মানুষ। বিগত কয়েকদিনে প্রায় সাড়ে পাঁচশ পরিবারকে পাহাড় থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন আমাদের আগমনের খবর পেয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে অনেকে।

এসব ঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। প্রবল বর্ষনে পাহাড় ধ্বসে প্রানহানির আশংকা থেকে জনগনকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।  

অভিযানে নগরের সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল মনসুর, আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভুমি) শারমিন আকতার ও চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাব্বির রহমান সানি ছাড়াও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

এর আগে পাহাড় ধ্বস ঠেকাতে এবং প্রাণহানী রক্ষায় চট্টগ্রাম নগরী ও বিভাগে দায়িত্বরত উদ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বেশ কয়েক দফা মতবিনিময় করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন।

এসব মতবিনিময় সভায় দুজনেরই মূল লক্ষ্য ছিলো পাহাড় ধ্বসে এবার চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় যেন একটিও প্রাণহানীর ঘটনা না ঘটে। সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণও করা হয়। কিন্তু এত সতর্কতার পরেও পাহাড় ধ্বসে  প্রাণহাণির ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে এখনো বড় ধরণের কোন দুর্ঘটনা না ঘটলেও মঙ্গলবার রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে মারা গেছে ১১ জন। উপজেলার বড়পুল পাড়ায় দুই পরিবারের ৪ জন, ধর্মচরণ কার্বারিপাড়ায় একই পরিবারের ৪ জন, হাতিমারা এলাকায় ২ জন ও গিলাছড়ি ইউনিয়নের মনতলা এলাকায় একজন মারা গেছেন।    

 

এবিএন/রাজীব সেন প্রিন্স/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ