বাউফলে ফার্মেসিতে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৮, ১৫:৩৮

বাউফল (পটুয়াখালী), ১৩ জুন, এবিনিউজ:পটুয়াখালীর বাউফলে অনুমোদনহীন ফার্মেসীর আড়ালে ঘুমের ট্যাবলেটের পাশাপাশি ইয়াবা বিক্রি জমজমাট হয়ে উঠলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সম্প্রতি মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকলেও ফার্মেসীগুলোতেও তল্লাসি চালানো প্রয়োজন বলে মনে করেছে সচেতন মহল। স্থানীয় তরুন-তরুনী ও যুবক এসব নেশা দ্রব্য হাতের নাগালে ও ক্রয়ে সহজলভ্য হওয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন অনায়াসেই।

জানাগেছে, বাউফল উপজেলা সদরসহ ১৫ টি ইউনিয়নে সহ¯্রাধিক ছোট বড় ঔষধের দোকান রয়েছে। বেশিরভাগ ফার্মেসি গুলোর ঔষধ বিক্রির নেই কোন অনুমোদন পত্র। আর এই ফার্মেসিগুলোতে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঔষধ। ওইসব ঔষধ ক্রয় মূল্যের চেয়ে খুচরা বিক্রিতে দ্বিগুন লাভ হওয়ায় নিয়মিত বিক্রি করে চলেছেন ব্যবসায়ীরা। আর তরুন-তরুনী ও যুবকগন আকৃষ্ট হয়ে স্বল্পমূল্য হওয়ায় নিয়মিত সেবন করছেন এইসব নেশা জাতিয় ট্যাবলেট।

৬টি ডেক্সমেথারসন ট্যাবলেট, ১টি সুডোকপ ও তুসকা সিরাপ ও ১০ টি সিভিট দিয়ে তৈরী করা হয় ঝাঁক্কি (স্থানীয় নাম)। এটি প্রস্তুত করার পরে তিনজন একবার নেশা করতে পারেন। তার কার্যকারিতা থাকে প্রায় ৮ ঘন্টা। এসব দ্রব্য পান করার ফলে অতিরিক্ত ঘুম, ক্ষুধা মন্দা, লিবার সহ কীডনি সমস্যায় পরে অকালেই প্রাণ হারাতে হয়। বাউফল পৌর এলাকার আনাচে কানাচে ব্যাঙ্গের ছাতার মতে গড়ে উঠা ফার্মেসিতে এসব চিত্র ফুটে উঠেছে।

পৌর এলাকায় সর্বমহলে আলোচিত রয়েছে রাতুল মেডিকেল হল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যার প্রোপাইটর জিল্লুর রহমান রুবেল। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার চিত্র একাধিকবার লেখা লেখি হলেও তিনি রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাইরে।

স্থানীয় শামিম হাওলাদার জানান, রুবেল ও নয়ন ব্রিকফিল্ড এলাকা থেকে পৌরসভাসহ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রন করছেন। এর মধ্যে পৌর শহরসহ দাশপাড়া, কালাইয়া ও নাজিরপুরের কিছু অংশ উল্লেখযোগ্য। তারা অনুমোদনহীন মেডিকেল হলে ঘুমের ট্যাবলেট এর পাশাপাশি বিক্রি করছেন ইয়াবা ট্যাবলেট। জন্মনিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেটকেও ইয়াবা হিসাবে চালিয়ে দিচ্ছে এসব ব্যবসায়ীরা। তার থেকে ক্রয় করেন ছোট ব্যবসায়ীরা। পুলিশকে মাসহারা দেন বলেই এখনও টিকে আছেন তিনি।

সার্বক্ষনিক স্থানটিতে রয়েছে দুর দুরন্ত থেকে আগত বিভিন্ন শ্রেনী পেশার যুবক তরুনদের আনাগোনা। মরণব্যাধি এ ট্যাবলেট বিক্রি করলেও থানা পুলিশ তাকে কিছু বলছেন না। রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাহিরে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেল জানান, ফার্মেসির ব্যবসা করি কিন্তু কোন ধরনের ইয়াবা কিংবা ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি করি না। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষরা অন্যায় ভাবে ফাঁসাতেই এসব ভূল তথ্য দিয়েছে।

বাউফলের সুধি মহল জানান, বাউফলে এখন পর্যন্ত কোন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পরে কঠোর সাজা হওয়ার প্রমান মিলেনি। প্রাথমিক ভাবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হলেও কিছু দিনের মধ্যে তারা জামিনে বেড়িয়ে আবার পুনরায় এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দেদাড়চ্ছে। নাম প্রকাশে অনুচ্ছিুক মেডিকেল অফিসার জানান, অনুমোদনহীন মাল্টিভিটামিন ওষুধ, সিরাপ ও ক্যালসিয়ামের বোতল বিক্রি নিষিদ্ধ। কিন্তু বেশি লাভের আশায় বাউফলের অধিকাংশ ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা এসব বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ইয়াবা মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারের পরে ওটা পরীক্ষার জন্য দুটি স্থানে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও পুলিশ এসবিতে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষার পরে ইয়াবার মূল উপাদান এমপি ফিটামিন নামক বিষাক্ত দ্রব্য না পাওয়া গেলে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা আদালতের মাধ্যমে ছাড়া পেয়ে যান। আমাদের কিছুই করার থাকেনা। তবুও আমরা এদের সবসময় নজরদারিতে রাখি। তবে ফার্মেসিতে বসে কেউ এসব ব্যবসা করলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিএন/দেলোয়ার হোসেন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ