নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও পৌর মেয়রের কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড তলবের আবেদন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৪

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সোমবার অগ্নিসন্ত্রাসে নিহত সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার বাদী তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পদক রফিকুল ইসলাম খোকনের কথোপকথনের ভয়েজ রেকর্ড তলবের আবেদন করেছে আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু। তিনি নুসরাত হত্যা মামলার আসামী সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মকসুদ আলম সহ আরো কয়েকজন আসামীর আইনজীবি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ আবেদন গ্রহন করে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আবেদনে আইনজীবী উল্লেখ করেন, নুসরাতকে অগ্নিসংযোগের আগে ও পরে মামলার বাদী নোমান ও পৌর মেয়র খোকন তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে বহুবার পরস্পরের সাথে কথা বলেন। উক্ত কথোপকথনের সময় তারা মিথ্যা মামলায় আসামীদের ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করেছেন। তাদের কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড পেতে তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন(বিটিআরসি) চেয়ারম্যান কে আদেশ দিতে আদালতের কাছে আবেদন করেন।

এছাড়াও আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু আসামী মকসুদ আলমের পক্ষে মামলার অভিযোগপত্রে রয়েছে কিন্তু রেকর্ডপত্রে নেই এমন পাঁছটি ডকুমেন্ট ৩ কার্য দিবসের মধ্যে পেতে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি আদেশ দিতে আদালতে আবেদন করেন। আদালতের বিচারক তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

তিনি যেসব কাগজাদি আদালতে দাখিলের আবেদন করেছেন সেগুলো হলো (১) সোনাগাজজী থানার জিডি নং-২১৯ তারিখ-৬/৪/২০১৯ (২ সোনাগাজী থানার জিডি নং-২৮০ তারিখ-৭/৪/২০১৯ (৩) ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গির আলম সরকার কর্তৃক বর্তমান মামলার তদারকি প্রতিবেদন(চার্জশীটে তারিখ উল্লেখ নেই (৪) বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান কর্তৃক অতিরিক্তি পুলিশ সুপার পিবিআই ফেনী জেলা বরাবওে দখিলি অতিরিক্ত তথ্য সম্বলিত দরখাস্ত( পুলিশ রিপোর্টে তারিখ উল্লেখ করা হয় নাই) (৫) ফেনী জেলা কারাগার হইতে প্রাপ্ত আসামী সিরাজউদদৌলার সাক্ষাতকারীদের তথ্য সম্পকিত প্রতিবেদন( তারিখ উল্লেখ করা হয় নাই)।

একই সময় পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালত অবমামনার আবেদনের শুনানী হয়। আদালতের বিচারকের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু তার আবেদনটি উপস্থাপিত হয়নি মর্মে প্রত্যাহার করে নেন। বিচারক এসময় বলেন,মামলার বিচার কাজ প্রভাবিত হতে পারে এমন কোন মন্তব্য যদি পুনরায় তিনি করেন তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দেওয়া হবে।

এদিকে নুসরাত হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহন অব্যহত রয়েছে। সোমবার নুসরাতের পিতা মাওলানা মুচা মানিক, তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলী ও সৈয়দ সেলিমের  সাক্ষ্য গ্রহন ও জেরা সমাপ্ত হয়েছে। এনিয়ে মামলার ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়েছে।

মামলায় হাজিরার জন্য রবিবার সকালে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে আনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের  পিপি হাফিজ আহাম্মদ এদিন পর্যায়ক্রমে তিনজন সাক্ষী আদালতে হাজির করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামী পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। সাক্ষ্য প্রদানের সময় নুসরাতের পিতা ও চাচাতো ভাই গত ২৭ মার্চ তাকে শ্লীলতাহানি থেকে শুরু কওে আগুন লাগানোর ঘটনা ও হাসাপাতালে চিকিৎসার বিস্তারিত বর্ননা করেন।

এসময় তারা আদালতে ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেন। সাক্ষ্য প্রদানের পর আসামী পক্ষের আইজীবীরা তাদের জেরা করেন। জেরার সময় আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখে নুসরাতের পিতা কয়েকবার উত্তর না দিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়লে আদালতের বিচারক তাকে শান্ত করেন ও প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন। বিচারকের আদেশের পর তিনি শান্তভাবে আসামীপক্ষের আইনজীবীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

আদালতের বিচারক সাক্ষ্য ও জেরা শেষে মঙ্গলবার নুসরাতকে চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসকদের সাক্ষ্য গ্রহনের তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালত সোনাগাজী,ফেনী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের প্রতি সমন ইস্যু করেন। এসময় বিচারক বলেন, সমন পেয়ে যারা আগে আদালতে হাজির হবেন তাদের সাক্ষ্য গ্রহন করা হবে।

আদালতে রাষ্ট্র ও বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি হাফেজ আহাম্মদ, সাহজাহান সাজু, ফরিদ উদ্দিন হাজারী। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন গিয়াস উদ্দিন নান্নু, ফরিদ উদ্দিন নয়ন, মাহফুজুল হক, আবুল বশর, নুর ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম মিন্টু, কামরুল হাসান,আহসান কবির বেঙ্গল।
 

এবিএন/আবুল হোসেন রিপন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ