এবার মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতারের দাবি রিফাতের বাবার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৩

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী গ্রেফতার আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন রিফাতের বাবা। আজ শুক্রবার বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয়টি গোপন করে বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থায় আমার ছেলের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে দেয় মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার পরেও মিন্নি নয়নের বাসায় আসা-যাওয়া করত।

তিনি আরও বলেন, কিশোর যদি তার মেয়ের বিয়ের তথ্য গোপন না করে তার মেয়েকে আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিতো, তাহলে আজ আমার ছেলের এমন অবস্থা হতো না। তাই আমার বিশ্বাস, আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা ও তার মা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত। এজন্য তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

দুলাল শরীফ বলেন, মিন্নির বাবা ও মাকে অনতিবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করা হোক। তাহলে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। মিন্নির বাবা মামলার গতি পরিবর্তন করার লক্ষ্যে অন্য সংস্থায় মামলার তদন্ত করার ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে চলায় মিন্নির বাবা প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের ইন্ধনে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে ষড়যন্ত্র করছে।

এরআগে গত ১৩ জুলাই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছিলেন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। 

রিফাত শরীফের বাবা লিখিত বক্তব্যে মিন্নিকে গ্রেফতারের ১০টি কারণ উল্লেখ করে জানান, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার ছেলে রিফাত হত্যার সাথে জড়িত। নয়নের সাথে বিয়ের ঘটনা সে ও তার পরিবার সুকৌশলে গোপন করে গেছে। এমন কি বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় শরিয়া বহির্ভূতভাবে মিন্নি রিফাতকে বিয়ে করেছে। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরেও মিন্নি নয়নের বাসায় আসা-যাওয়া ও যোগাযোগ রক্ষা করতো। রিফাত হত্যার আগের দিন অর্থাৎ ২৫ জুন মিন্নি নয়নের বাসায় গিয়েছিল, মিন্নি প্রতিদিন একা একা কলেজে গেলেও ঘটনার দিন  রিফাতকে ডেকে কলেজে নিয়ে গেছে। রিফাত তার স্ত্রী মিন্নিকে নিয়ে মটরসাইকেলে চলে আসতে চাইলেও মিন্নি কৌশল করে কালক্ষেপন করেছে। রিফাতকে যখন রিশান ফরাজী দলবল নিয়ে জাপটে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ছিলো মিন্নি, রিফাতকে কোপানোর সময় মিন্নি আসামীদের জাপটে ধরলেও আসামীরা কোপায়নি। আহত রিফাতকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা না করে মিন্নি তার জুতা ও ব্যাগ ওঠাতে ব্যস্ত ছিলো,আহত রিফাতকে বরিশাল নেওয়া হলেও মিন্নি তার সঙ্গে যায়নি।

এসময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রিফাতের বাবা। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কেন এখন পর্যন্ত মিন্নিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না? হয়তো পুলিশ মিন্নিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডের সত্যতা তথা প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। তাই গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বেলা তিনটার দিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়। পরের দিন ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। 

এবিএন/রাজ্জাক/জসিম/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ