মাদারীপুরে চাঞ্চল্যকর দীপ্তি হত্যার মূল আসামি খুনি সাজ্জাদ গ্রফতার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০১৯, ২২:২৪

মাদারীপুরের চাঞ্চল্যকর দশম শ্রেণির মাদ্রাসার ছাত্রী সানজিদা আক্তার দীপ্তি হত্যার মূল আসামি খুনি সাজ্জাদ খানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস দল। গতকাল শুক্রবার ১৯শে জুলাই রাতে অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

আটকের পরে শনিবার ২০ জুলাই বেলা ১১টার দিক র‌্যাব-৮ এর (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম মাদারীপুরে সংবাদ সম্মলন এ তথ্য জানান। এর আগ ১৯৯২ সাল ৭ বছরর শিশুক গলাকট হত্যার মামলায় যাবজ্জীবন কারাভাগ কর ১৮ বছর পর ২০১১ সাল কারগার থক মুক্তি পায় সাজ্জাদ। সাজ্জাদ মাদারীপুর পৌরসভার পূর্ব খাগদী এলাকার মৃত্যু সিরাজুল ইসলামর ছেলে।

র‌্যাব-৮ এর প্রধান কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম বলেন, গত ১১ জুলাই বুধবার সকালে মাদারীপুর শহরের তরমুগরিয়া এলাকায় বোনের বাড়ি বেড়াতে আসে দিপ্তী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বেড়ানো শেষে গ্রামে বাড়ি রওয়ানা দেয়। এর পর থেকেই নিখোঁজ ছিলো।

শনিবার বিকালে শহরের পাকদী এলাকার একটি পুকুর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা রোববার সকালে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে এসে লাশ সনাক্ত করে। নিহত কিশোরীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। মুখমন্ডল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ঝলসে দেয়া হয়েছে। পেটে উপর ছুড়িকাঘাত করা রয়েছে। লাশটি ছিলো সম্পুন্য বিবস্ত্র। ঘটনার পর থেকে র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকস দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাইজুল ইসলামের নেতৃত্বে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের এক পর্যায়ে গত ১৮ জুলাই লাশটি উদ্ধার হওয়া পুকুরে তল্লাশি করে একটি ব্যাগ/(এলিফ্যান্ট কিং সিমেন্ট) বস্তা উদ্ধার করে। যার ভিতরে কাপড় চোপড়, বোখরা, জুতা ইত্যাদি যা দীপ্তির ব্যবহারিত ও পরনে ছিলো। এর সুত্র ধরে গত কাল রাতে সাজ্জাদ খানকে আটক করে র‌্যাব জিজ্ঞেসাবাদ শুরু করে। র‌্যাবের অব্যায়হত ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত অটোবাইক চালক সাজ্জাদ খান স্বীকার করে যে, গত ১১জুলাই দুপুরের পরে মুশল ধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। আনুমানিক ৬টার দিকে শহরের ইটেরপোল স্ট্যান্ড থেকে বোখরা পরিহিত এক কিশোরী চরমুগরিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয়। তবে কিশোরীকে ইজিবাইকের মধ্যে একা পেয়ে সাজ্জাদের মনে খারাপ বুদ্ধি জেগে উঠে। চরমুগরিয়ার দিকে না গিয়ে পূর্ব খাগদী এলাকার রাস্তায় গাড়ি ঢুকিয়ে দেয়।

কিশোরী যাত্রী জানতে চাইলে খুনি সাজ্জাদ বলেন বাসায় জরুরী একটা কাগজ নিতে হবে। কিশোরীর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই নরপশু রাস্তার পাশে বাড়ির সামনে ইজিবাইক থামিয়ে গলা চেপে ধরে টেনে হিছরে ওর ঘরের ভিতরে নিয়ে যায়। এক পর্যায় দিপ্তী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েটি একাধিক বার ধর্ষণ করে সাজ্জাদ। এক সময় মেয়েটি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। তবে এ সময় ইজিবাইক চালক স্ত্রী ও সন্তানরা শহরের তার শশুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় পুরো বাড়ি ফাঁকা ছিলো। তাই নিহতের উলঙ্গ শরীর ও পরনের ব্যবহারিত পোশাক একটি এলিফ্যান্ট কিং ব্রান্ড সিমেন্টর বস্তায় বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুরে ঐদিন রাত ১১টার দিকে লাশ ডুবিয়ে রাখে। দু'দিন পরে লাশ ভেসে উঠলে উৎসুক জনতার মতো লাশটি দেখতে ওই নরপশু যায়।

র‌্যাব-৮, সিপিসি-৩ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তাইজুল ইসলাম জানান, আটক হওয়ায় সাজ্জাদ ও উদ্ধারকৃত আলামত সদর মডেল থানায় হস্থান্তর করা হয়েছে।

এবিএন/সাব্বির হোসাইন আজিজ/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ