পাওনা টাকা চাওয়ায়

ধুনটে থানার ভিতরই নারীকে পেটাল পুলিশ কর্মকর্তা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯, ২২:৫১

বগুড়ার ধুনটে পাওনা টাকা চাওয়ায় থানার ভিতরই কোহিনুর খাতুন (৪২) নামে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করেছে এক পুলিশ কর্মকর্তা।  আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় ধুনট থানায় এঘটনা ঘটে। আহত ওই নারীকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ-বাজার এলাকার জাবেদ আলীর মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্ত দুই সন্তানের জননী কোহিনুর খাতুন বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের দোকানে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সেই সুবাদে ২০১০ সালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে এএসআই শাহানুর রহমানের সাথে কোহিনুরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কোহিনুরের বাসায় শাহানুর রহমানের অবাধ যাতায়াত ছিল। ওই সময় শাহানুর কৌশলে কোহিনুরের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

এদিকে ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে শাহানুর রহমান বগুড়া থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন। এরপরই কোহিনুরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখে শাহানুর। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পাওনা না পেয়ে দুই মাস আগে এএসআই শাহানুরকে উকিল নোটিশ দেয় কোহিনুর।

খবর পেয়ে শাহানুুর রহমান এক সপ্তাহ আগে কোহিনুর খাতুনকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধুনট থানায় আসতে বলেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় কহিনুর খাতুন পাওনা টাকার জন্য ধুনট থানায় আসে। কিন্তু  এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহানুর রহমান পিটিয়ে থানা থেকে কোহিনুর খাতুনকে বের করে দেয়।

পরে কোহিনুর খাতুন ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও পেটাতে থাকে শাহানুর। এ সময় স্থানীয় লোকজন কোহিনুর খাতুনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ধুনট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোহিনুর খাতুন জানান, শাহানুর কৌশলে আমার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়টি জানার পর শাহানুর টাকা দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার থানায় ডেকে এনে পিটিয়ে আহত করেছে।

তবে এবিষয়ে ধুনট থানার এএসআই শাহানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষে ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ নামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তারপরও বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়থাপ্পর মেরেছি।

এদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত কোহিনুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন ২ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

এবিএন/ইমরান হোসেন ইমন/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ