মাসিক চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় হোটেল মালিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯, ১৯:১৪

মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় একটি আবাসিক হোটেল মালিককে থানায় নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চোখ জখম করার অভিযোগ উঠেছে, মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই হোটেল মালিক বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হোটেল মালিকের দাবি, শুধু নির্যাতনই নয়, একটি সাজানো মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারও করেছেন ওসি। পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতারা।

নির্যাতনের শিকার হোটেল মালিক ও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই সোমবার রাতে মাদারীপুর পৌর শহরের আবাসিক সুমন হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাতে থাকতে আসেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ছালাম পেদা ও তার শালিকা। ঘটনাটি জেনে ওই রাতেই হোটেল তল্লাশি করতে আসেন মাদারীপুর পুলিশের ডিএসবি শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম। এসময় তিনি দুজনের কথায় অমিল খুঁজে পান। এ ঘটনা নিয়ে হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ।

হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সি সাংবাদিকদের জানান, ‘পরের দিন সকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম আমাকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নেয়। তিনি এ সময় মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওসি এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পর দিতে থাকে। ওসির হাতের আঘাতে আমার চোখের ভেতরে রক্ত জমাট হয়ে যায়। এরপর ওসি দম্পতি পরিচয় দানকারী আমার হোটেলের বোর্ডার সালাম পেদাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি সাজানো মামলা দিয়ে আদালতে পাঠান। বিজ্ঞ আদালত আমাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন দেন। পরে চোখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।’

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই ওসি মাদারীপুর সদর থানায় যোগ দেন। এরপর দুই বার আমাকে তার রুমে ডেকে মাসিক পনের হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেছি। তিনি তখন থেকেই আমার ওপরে ক্ষেপে আছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুব আবির জানান, চোখের আঘাত বেশি হওয়ায় রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অধিকতর চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র যেতে পারেন। তার চোখ ও মুখে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

সিরাজ মুন্সী বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে হোটেলে ওঠা সেই ছালাম পেদা বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। থানার একজন অভিযোগ লিখেছে, আমাকে টিপসই দিতে বলেছে, আমি টিপ সই দিয়েছি। আমি মামলা করতে রাজি না। এর আগে হোটেলে একজন পুলিশ পরিচয় আমাদের কাছে টাকা দাবি করেছে।’

নির্যাতনের বিষয়ে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, আমার সঙ্গে তার (সিরাজ মুন্সী) দেখাই হয়নি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি থানায় মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ওসি নির্যাতন করে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিএন/সাব্বির হোসাইন আজিজ/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ