চকরিয়া-পেকুয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংকট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯, ১৯:১১

বানের পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার মানুষ। দু’উপজেলার অন্তত ৮লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৭০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দী। রান্না করতে না পেরে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ দুদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া করেনি। সাথে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয়জলের। পানির নিচে তলিয়ে থাকায় অভ্যান্তরীন যোগাযোগ প্রায় বন্ধ।  ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে অনেকেই খাবার সংগ্রহ করছে। টানা ৮দিনের বর্ষণে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ অবস্থার সৃষ্টি।  আজ শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমলেও পানি এখনো পুরোপুরি নেমে যায়নি।

উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা হাল্কা শুকনো খাবার ও খিচুড়ি রান্না করে  বানবাসি মানুষদের কাছে দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে সড়কের পাশে থাকা দুর্গতরা এসব শুকনো খাবার পেলেও বেশিরভাগ দূর্গতরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাই বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি পৌছে দেয়ার দাবি জানান দূর্গতরা। তারা আরো অভিযোগ করেন, ভোটের সময় ভোট চাইতে আসলেও দু:সময়ে কোন জনপ্রতিনিধিকে কাছে পাওয়া যায়না।  
 
চকরিয়ার পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন এবং পেকুয়ার ৭টি মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ১টি পৌরসভা ও ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ২ থেকে ৩ ফুট পানি রয়ে গেছে।

ওইসব পরিবারের লোকজন বলেন, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি তেমন কমেনি। তাদের বাড়িতে পানীয়জল ও খাবার সংকট থাকলেও কোন নেতা বা জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ-খবর নেয়ার গরজ করেনি। অনুরুপভাবে অধিক প্লাবিত অপর গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের অবস্থাও একই। গত শুক্রবার থেকে চকরিয়া-পেকুয়া, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই বৃষ্টির পানি রাতের দিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসে ভাটির দিকে।

এসময় নদীর দু’কুল উপচিয়ে লামা-আলীকদম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল, কোণাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, ফাঁসিয়াখালী ও  পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা এবং পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, মগনামাসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়।  
 
কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও সুরাজপুর-মানিকপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক  ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার জানান, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি করেমনি। শতশত পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে খিচুড়ি রান্না করে  ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।  

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কাছে জিন্মি হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করলে পৌর এলাকার যেসব ওয়ার্ডে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আশা করি ওইসব পানি দ্রুত নেমে যাবে।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী শুক্রবার সকালে থেকে তার নিজস্ব তহবিল থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বন্যার পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গতদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। বন্যা পানি নেমে গেলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে করণীয় ঠিক করা হবে।  

এব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুব-উল করিম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব শুকনো খাবার বন্যা কবলিত এলাকায় পৌছে দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনের লোকজনও কাজ করছে।

এবিএন/মুকুল কান্তি দাশ/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ