মাদারীপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০১৯, ২২:১৮ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ২২:২২

মাদারীপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এরশাদ নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বত্তরা। তবে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে শান্তিনগর এরাকার জসিম গৌড়া ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে।  আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টার দিকে মাদারীপুর পৌর শহরের সবুজবাগের লঞ্চঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সবুজবার এলাকার নদীর পাড় দিয়ে যাচ্ছিলেন এরশাদ মুন্সী (২২)। এসময় ওত পেতে থাকা দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর ভাবে আহত করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মুর্মূষ অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরশাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এরশাদ সবুজবাগ এলাকার দিনমজুর বেলায়েত মুন্সীর ছেলে।

তবে স্থানীয়রা আরও জানান, এরশাদ এবং জসিম গৌড়ার মধ্যে স্থানীয় প্রভাব বিস্থার নিয়ে অনেকদিন বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার পর মাদারীপুর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও র‌্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই এলাকাসহ আস-পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
 
এদিকে নৌকা প্রতিক নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণদে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত এরশাদ মুন্সিকে তার নিজ দলের নির্বাচনী এজেন্ট দাবি করে বলেন, এরশাদ আমার নৌকা পতিকের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলো, আমরা জেলা আওয়ামী লীগ এই জঘন্য হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করছি।  জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ ও পৌর মেয়র খালিদ হোসনে ইয়াদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের যুবলীগের কর্মি এরশাদকে পরিকল্পিত ভাবে আনারসের সমার্থক জসিম গৌড়ার নেত্বত্বে হত্যা করা হয়।জসিমের বিরুদ্ধে ডাকাতি, খুনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনে আমাদের হত্যা করতে পারে, এই বিষয়টি পুলিশ সুপারকে বার বার বলা হলেও তাকে গ্রেফতার করেনি। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমরা জসিমসহ খুনিদের বিচার দাবী করি।’

নিহত এরশাদ এর পিতা বেলায়েত মুন্সী নৌকা প্রতিকে পরাজিত প্রার্থী কাজল কৃষ্ণদের সংবাদ সম্মেলন ভিত্তিহীন দাবি করে জানান, আমার ছেলে আনারস মার্কার নির্বাচন করেছে। আমার ছেলেকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। আমি নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করতে চাই না। পূর্ব শত্রুতার কারণে জসিম, রাসেল ও তার সহযোগীরা আমার ছেলে নৃশংস ভাবে খুন করেছ। আমি শুনিছি পরাজিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী কাজল কৃষ্ণদে আমাকে না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমার স্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছে। তাদের দাবি সম্পুর্ণ বানোয়াট ভিত্তিহীন। আমার ছেলে কোন দল করে না শুধু এ নির্বাচনে আনারস মার্কার নির্বাচন করেছে। আমি আমার ছেলের হত্যা কারিদের বিচার চাই।     
               
মাদারীপুর জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শুব্রত কুমার হালদার বলেন, ‘নিহতের ঘটনার সাথে  জসিম গৌড়া নামের এক লোক জড়িত। তবে এ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে যেই হত্যার সাথে জড়িত থাকুক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এবিএন/সাব্বির হোসাইন আজিজ/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ