রাণীনগরে পরীক্ষা ছাড়াই সেতু নির্মাণের অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০১৯, ১৩:৪৬

নওগাঁর রাণীনগরে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই নির্মাণাধীন ৩টি ব্রীজের খাম্বার ভারবহন সক্ষমতা পরীক্ষা (পাইল লোড টেষ্ট) ছাড়াই পাইল ক্যাপ, বেজ ঢালাইসহ ওয়াল নিমার্ণ কাজও প্রায় সম্পূর্ণ করা হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় দায়সাড়া টুুকটাক কাজ করতে দেখা গেলেও রাতের আধারে চুপিসারে পুরোদমে চালিয়েছে সেতুর পাইলিং এর কাজ। পাইল লোড টেষ্ট না করে সেতু নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে পাইলের সাথে সাথে সেতুর বিভিন্ন অংশ ডেবে গিয়ে সেতু ভেঙ্গে পড়াসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। 

স্থানীয় এক প্রকৌশলী আবু তারেকের মতে, সেতু নির্মাণের শুরুতে নিদিষ্ট স্থানে মাটি শক্তি পরীক্ষা অর্থাৎ সেখানকার মাটি কতটুকু লোড নিতে সক্ষম সেটা পরীক্ষার পর পাইলের কাঠামো তৈরি করে পাইল (খাম্বা) নির্মাণ করা হয়। বড়-ছোট সেতু ভেদে পাইলিং কয়েক ধরণের হয়ে থাকে। সেই পাইল গুলোর ইন্টিগ্রেটি (খাম্বার অখন্ডতা) পরীক্ষা, পাইল লোড টেষ্ট (খাম্বার ভারবহন সক্ষমতা পরীক্ষাসহ) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা অবশ্যই করতে হয়। 

তবে সেতু নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা নওগাঁর সড়ক ও জনপদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান স্বপন দাবি করে বলেন, এখন আর ১০/১৫ দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে ২৪/৩৬ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় না। আধা ঘন্টায় অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেই অত্যাধুনিক মেশিনটির নাম ও সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টসহ দরপত্র মোতাবেক তথ্য ও ফটো কপি চাইলে, ‘অত্যাধুনিক মেশিন’ এর নাম তিনি জানেন না ও তার কাছে এসব তথ্য থাকে না মর্মে সড়ক ও জনপদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেন তিনি।

জানা গেছে, নওগাঁর সড়ক ও জনপদের আওতায় রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে আবাদপুকুর হয়ে কালীগঞ্জ সড়কে চলাচলরত যাত্রী-সাধারণ ও নির্বিঘেœ সব ধরণের ভারী যান চলাচলের লক্ষ্যে ঝুকিপূর্ণ সেতু সংলগ্ন নতুন করে ৪টি সেতু ও ২৪টি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। দরপত্র আহবানের পর এসব সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ কাজের যৌথ দায়িত্ব পেয়েছেন, নাটোর জেলার ঠিকাদার মীর হাবিবুর আলম, এমএ মিজান ও ইউনুস এ্যান্ড বাদ্রার্স নামক প্রতিষ্ঠান। ৪টি সেতুর নির্মাণ ব্যয় ২৮ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। 

স্থানীয় ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম ও সেতু সংলগ্ন রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মালেক, আব্দুল আজিজ, আব্দুর রহিমসহ অনেকই জানান, পাইল লোড টেষ্ট করতে আমরা দেখিনি। পাইল, ক্যাপ, ওয়ালসহ সেতু নির্মাণে কি ধরণের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তাও জানা সম্ভব নয়। কারণ তারা তো দিনের বেলায় পাইলের কাজই করেনি। রাতের আধারে পুরোদমে নির্মাণ কাজ করেছে। আর তারা তো দরপত্রটা দেখাতে চায় না। আধুনিক মেশিন বা পুরাতন যেটা দিয়েই হোক পাইল লোড টেষ্ট যদি করতো তাহলে অন্তত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দেখা যেত। কিন্তু তারা সেগুলো করেইনি। পাইল লোড টেষ্ট না করে সেতু নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশংকাসহ সেতুর স্থায়ীত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদারকি প্রকৌশলী মো. মুনছুর আলী বলেন, নির্মাণাধীন সেতুগুলোতে কাষ্ট-ইন-সিটু পাইল করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার টেকনো ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে লোকজন এসে পাইল লোড টেষ্টসহ সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ করে গেছেন। অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে লোড টেষ্ট করা হয়েছে। তবে ওই মেশিনের নাম কি তা জানি না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ঢাকাতে গিয়ে ‘টেকনো’ অফিস থেকে জানতে পারবেন। অত্যাধুনিক মেশিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে ভাড়া নিয়ে সকল কার্য সম্পাদন করেছেন।

এ ব্যাপারে নওগাঁর সড়ক ও জনপদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল মুনছুর আহমেদ এর কাছে উপরোক্ত বিষয় সংক্রান্ত জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে সাংবাদিককে বলেন, সেতু ভেঙ্গে গেলে আপনার কি হবে। কার জেল জরিমানা হবে। আমার চাকুরি যাবে। সব দায়ভার আমাদের, কারণ সরকার সড়ক ও জনপদ বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বিষয়গুলো আমরাই দেখবো। নির্মাণাধীন ৩টি সেতুর ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব ধরণের টেষ্ট করা হয়েছে। কাজে কোন প্রকার অনিয়ম হচ্ছে না। তবে ‘অত্যাধুনিক মেশিন’ এর নাম তিনিও বলতে পারেননি।

এবিএন/এ বাশার চঞ্চল/গালিব/জসিম 

এই বিভাগের আরো সংবাদ