কালিগঞ্জে দু’সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মে ২০১৯, ১৮:০৬

আফরোজা খাতুন (২৬) নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত আফরোজা খাতুন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার পাইকাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত রাশেদ আলীর মেয়ে।

নিহতের ভাই নওয়াপাড়া গ্রামের আজমল হোসেন জানান, ১০ বছর আগে তার বোনের সঙ্গে পাইকাড়া গ্রামের শাহজাহান পাড়ের ছেলে আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সিয়াম (৯) ও শিহাব (দেড়) নামের দু’সন্তান আছে। বর্তমানে দুলাভাই আলমগীর হোসেন ভারতের তামিলনাড়–তে কাজ করে। এই সুযোগে দুলাভাইয়ের বাবা শাহাজাহান পাড় ও মা আনোয়ারা বেগম তার বোনকে বাপের বাড়ি থেকে প্রায়ই টাকা ও জিনিসপত্র আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো এবং কারনে অকারনে প্রায়ই মারপিট করা হতো তাকে।

এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম এক শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করে দেন। গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলে আফরোজার শ্বাশুড়ি ও শ্বশুর। অপারগতা প্রকাশ করায় আফরোজাকে ব্যাপক মারপিট করা হয়।

বিকেল তিনটার দিকে বোনের চাচা শ্বশুর মিঞাজান আলী মোবাইল ফোনে তাদেরকে আফরোজা মারা গেছে বলে জানান। সেখানে এসে আফরোজাকে বসত ঘরের বারান্দায় মৃত অবস্থায় দেখতে পান তারা। আফরোজাকে মেরে ফেলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন প্রচার দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে শ্বশুর শ্বশুড়ি পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা তাদেরকে জানান।

তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন আজমল ও তার মামা শাহীনুর। গ্রাম ডাক্তার শেখ মোঃ নাসিম জানান, খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে আফরোজাকে পরীক্ষা করে কমপক্ষে আধ ঘণ্টা আগে মারা গেছে বলে জানতে পারেন তিনি। নিহতের শ্বশুড় বাড়ির কেউ বাড়িতে না থানায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আমজাদ হোসেন জানান, আফরোজার মৃতের শরীরের দু’ হাতের তালু, দু’ উরু, কোমর ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত ছিল। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে না নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে ময়না তদন্ত ছাড়া এখনই বলা যাবে না। লাশের ময়না তদন্তের জন্য শুক্রবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।


এবিএন/রফিকুল ইসলাম/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food