পাথারিয়া- বাংলাবাজার সড়ক

১৪ কিলোমিটার সড়কের ১০ কিলোমিটারে পাঁচশতাধিক ভাঙ্গা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৫২

সুনামগঞ্জের পাথারিয়া হতে বাংলাবাজার ১৪ কিলোমিটারের সড়কের মধ্যে ১০ কিলোমিটার সড়কই ভাঙ্গা সড়কের মধ্যভাগে ছোট বড়ো পাঁচশতাধিক খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের মধ্যভাগে লোহার রড বের হয়ে থাকায় যেকোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।  

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ও যানবাহন ৬ বৎসর যাবৎ এ ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে  ভাটিপাড়া ও   রফিনগরসহ দুটি ইউনিয়নের দত্তগ্রাম, মুরাদপুর, মধরাপুর, ভাটিপাড়া, আলীনগর, ইসলামপুর, কুচিরগাঁও, খাগাউড়া, সেচনী, আনোয়ারপুর, রফিনগর, মীর্জাপুর, মাছিমপুর, কিত্তাগাঁও, স্বজনপুর, রামজীবনপুর, সাদিরপুর, গাজিয়ারগাঁও, সমীপুর নোয়াগাঁও, জগন্নাথপুর, কুর্দ্দনপুর, বল্লনপুর, আলীপুরসহ ৭০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ এ সড়ক দিয়ে জেলা শহর সুনামগঞ্জ ও উপজেলা শহর দিরাই এবং বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করে থাকেন।

এছাড়া গুরুত্বপুর্ণ এ সড়ক দিয়ে দুইশতাধিক ভাড়াটে মোটর সাইকেল চলাচল করে থাকে। বিগত দি গুলোতে এ সড়ক দিয়ে সিএনজি আটোরিক্সা চলাচল করলেও সড়কের ভাটীপাড়া ও মধরাপুর অংশে বিশাল গর্তের কারণে তিন চাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্খানীয়রা জানান, গর্তে এতো বেশি পরিমাণ কাদা রয়ে ছেয়ে একটি গাড়ি বা মোটরসাইকেলের অর্ধেক অংশ কাদা মাটিতে দেবে যায়।  একটি মোটরসাইকেলও কাদা মাড়িয়ে পাড় হতে পারে না।  যেসব মোটরসাইকেল চালক কাদার গর্ত পেরিয়ে পাথারিয়া যেতে ও বাংলাবাজার আসতে চান তারা মারাত্মক  র্দুভোগে পড়েন  কারণ কাদায় মোটরসাইকেল দেবে গেলে তিনজন লোক লাগে কাদা থেকে গাড়ি টেনে তুলতে। দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না হওয়ায় কালিয়াকোটা হাওর ভাটিপাড়াহাওর, কুচিরগাও হাওর, উদিরহাওরসহ ৫টি হাওরের ধান পরিবহণে ব্যহত হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে দিরাই সরকারি কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করেন।

রামজীবনপুর গ্রামের মোটরসাইকেল চালক চাঁন মিয়া বলেন, শোরুম থেকে ভাড়ায় গাড়ি চালানোর জন্য নুতন বাজাজ গাড়ি কিনেছিলাম ভাঙ্গা সড়কে গাড়ি চালানোর ফলে ১ বৎসরে পুরান হয়ে গেছে। এক বৎসর লাইন বেয়ে দুই বার ইঞ্জিন ডাউন দিছি। এটা সড়ক না দোযখ মনে হয়।  

ইসলামপুর গ্রামের আলী নূর বলেন, ভোটের সময় সড়ক ঠিক কইরা দেওনের কথা কইয়া ভোট নেয় আর ভোট শেষ হইলে সড়ক ঠিক করা তো দূরের কথা কারও কোন খোঁজ পাওয়া যায় না। গাজিয়ারগাঁও দেবান্দ দাস বলেন, দুইটি ইউনিয়নের মানুষ এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া আসা করেন। কিন্তু বছরের পর পাড় হয়ে গেলেও কেউ সড়কটির দিকে ফিরেও তাকায় না। জনগন মাজা ভাইংগা চলাচল করে।   মীর্জাপুর গ্রামের সফিকুল বলেন, জনসভায় মাইক লাগাইয়া সড়ক ঠিক করার কথা বলা হয়। মুলত এটি ভাওতা বাজি ছাড়া আর কিছু না। মানুষের কষ্ট হলেও কারো কোন কিছু আসে যায় না কারণ বড়োলোকরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন না। তারা তো ইলেকশনের সময় আইন আর নাইলে আইন না এর লাগি সড়ক ঠিক হয় না।

রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন রেজোয়ান খান বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এ রুটে চলাচলকারী জনসাধারণ মারাত্মক র্দুভোগে রয়েছেন। সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল আহমদ বলেন সড়কটি সংস্কারের জন্য দু’বার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু কোন ঠিকাদার দরপত্রে অংশগ্রহণ করেননি। তবে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।

এবিএন/অরুন চক্রবর্তী/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ