আগৈলঝাড়ায় শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকরা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৫

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধানের দাম কম, শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকরা। একারণে আগৈলঝাড়ার কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে না পারায় দু:শ্চিন্তায় ভুগছে।

পাকা ধান জমিতেই নষ্ট হওয়ার আশংকায় করছে তারা। বাজার মনিটরিং না থাকায় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা। চলতি মৌসুমের একমাত্র ফসল ইরি-বোরো ধানের ফলন ভালো হলেও ধানের দাম কম হওয়ায় গোপলগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরণখোলা, রাজাপুর, মোড়েলগঞ্জ এলাকার ধানকাটা শ্রমিকরা আসবে না বলে জানিয়ে দেয়ায় চরম বিপাকে পরেছে এ জনপদের কৃষকরা।

যদিও এরই মধ্যে ওই সব এলাকার কিছু সংখ্যক শ্রমিক ধান কাটার জন্য আগৈলঝাড়া এলাকায় এলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নগণ্য। যারাও এসেছে তাদের অনেকেই ধানের দাম কম ও জমিতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার কারণে ধান কাটতে চাইছেনা। অনেকে আবার এসে জমিতে পানি দেখে ও ধানের দাম কম হওয়ায় নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। ধান কাটা শ্রমিকদের ৫-৬ ভাগায় ধান ও তিন বেলা খাবার দিতে হচ্ছে।

আবার স্থানীয়ভাবে ধানের বাজার মূল্য পূর্বের চেয়ে কম হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিকরা ধান কাটতে অনীহা প্রকাশ করছে। উফশী হাইব্রীড জাতের ধান স্থানীয় বাজার মূল্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও ব্রি-২৯ জাতের ধানের বাজার মূল্য ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। যা চাষীর উৎপাদন খরচের অর্ধেক। ধানের বাজার মূল্য কম হওয়া, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল পরিবেশসহ সব মিলিয়ে উঠতি ফসল ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকরা চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছেন।

অনেক কৃষক পরিবারে দেখা গেছে, ধানকাটা শ্রমিক না পেয়ে স্ত্রী, ছেলেমেয়েসহ পরিবারের লোকজন নিয়ে ধান কাটার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকের কাছে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বৃষ্টি-বাদলের আশংকায় আতঙ্কিত হয়ে পরছে। তারা জানিয়েছে বৃষ্টি আসলে পাকা ধানের আর্ধেকও ঘরে তোলা সম্ভব হবেনা। এদিকে প্রান্তিক চাষীরা ‘মরার উপর খরার ঘা’ দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের দাদনের ধান ও সুদের টাকার চিন্তায় বিপর্যস্ত হয়ে পরেছেন।

জানা গেছে, বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষি স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার টাকার লভ্যাংশে ১ মন ধান ও নগদ ১ হাজার টাকা হারে দাদন নিয়ে বেশী ফলনের আশায় উচ্চমূল্যে বীজ কিনে বীজতলা তৈরীসহ চাষাবাদ করেছেন। জ্বালানী তেলসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকদের গত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদন খরচ বেশী টাকা গুনতে হয়েছে।

চাষীরা জানান, এবছর প্রতি মন ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮শ’ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দাদন ব্যবসায়ীদের টাকা ও ধান পরিশোধ করা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ায় শ্রমিকেরা ধান না কেটে অন্যান্য কাজে ঝুঁকে পরায় বর্তমানে ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বেশীরভাগ প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও বর্গা চাষীরা স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনে পরিশোধ করার ব্যাপারে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। বর্তমানে গোয়ালের গরু, স্ত্রীর গহনা বিক্রি করেই মহাজনের দাদনের টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে বলে একাধিক কৃষকরা জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বছর ১০ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করা হয়েছে। তবে সরকার কৃষকদের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করলেও ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়মনীতিসহ নানা জটিলতায় কৃষকরা ব্যাংক ঋণ নিতে না পেরে দাদন ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকেই তাদের টাকা সংগ্রহ করতে হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবছর কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় কৃষি উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ পরেছে। আর এ সুযোগে দাদনব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা আরও স¤প্রসারিত করেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ফসলের বাজার মূল্য এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যাবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করলেও সরকার এখন পর্যন্ত বাজার মনিটরিং না করায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এবিএন/অপূর্ব লাল সরকার/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food