ধর্মপাশায় শ্রমিক সংকটে জমিতেই ঝরে পড়ছে পাকা ধান

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:১৮

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ধান কাটার শ্রমিকসংকটের কারণে পাকা ধান খেতেই ঝরে পড়ছে। ৬০০-৭০০ টাকা মজুরি ও তিনবেলা খাবার দিলেও ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে পরিবারের দু-একজন সদস্য নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহ খানেক আগে উজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধান পাকা শুরু হয়। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে ধান কাটাতে না পারায় ধানের গোছা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। এ কারণে বোরো চাষে আগ্রাহ হারাচ্ছেন কৃষকরা।

ঘুলুয়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, ১৫ বিঘা জমিতে বোর ধান চাষ করেছিলাম। ৬০০ টাকা মজুরি দিতে চেয়েও ধান কাটার লোক পাইনি। বাধ্য হয়ে ছয় ভাগের এক ভাগ ধান দিয়ে কাটিয়েছি।

সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের কৃষক শাহ-কামাল বলেন,আমি পাঁচ বিঘা জমিতে বোর ধান চাষ করেছি। ধান পেকে খেতে ঝরে যাচ্ছে। প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরির সঙ্গে তিনবেলা খাবার দিলেও ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই একা একা নিজেরাই যতটুকু সম্ভব ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।

সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী জানান, এখন গ্রামাঞ্চলে তরুণ ও যুবক কৃষকের সংখ্যা কমে গেছে। গ্রামে অনেক কৃষক পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-যুবকেরা লেখাপড়া শিখে চাকরি করছেন। অল্প শিক্ষিত ব্যক্তিরা ভাড়ায় মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালাচ্ছেন। তাই গ্রামে এখন কৃষিকাজের শ্রমিক পাওয়া যায় না। গ্রামাঞ্চলে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাই এখন কৃষিকাজের হাল ধরে রেখেছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, এই সংকট উত্তরণে ধান কাটা, ঝারা, ও মাড়াইয়ের জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হবে। কৃষক ক্লাবগুলো শক্তিশালী করে সমবায়ের ভিত্তিতে যান্ত্রিক চাষাবাদ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের খরচ কমবে, সময় কম নষ্ট হবে এবং তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
 

এবিএন/ইমাম হোসেন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ