কালিয়াকৈরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়িতে হামলা ও লুটপাট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:১৫

গাজীপুরের কালিয়াকৈর আনসার একাডেমী ৩নং গেইট এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও বসত বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৬লক্ষ টাকা লুটপাট করার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ওই দিন রাতেই মো: রসিকুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত তিন আসামীকে আটক করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। পরে তাদেরকে চার ঘন্টা থানা গারদে আটকে রেখে রহস্যজনক ভাবে ছেড়ে দিল থানার ওসি।

গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে ‘ট্রেড মিডিয়া স্টীল করপোরেশন’ নামের একটি রড সিমেন্টের দোকানে ঢুকে সন্ত্রাসীরা ক্যাশ কাউন্টারের একটি গ্লাস ভাংচুর করে এবং দোকানে থাকা নগদ ৬ লক্ষ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার ব্যাপারে মামলার বাদী মো: রশিকুল ইসলাম জানান, সে বিশ্বাসপাড়া এলাকার সাফিজ উদ্দিনের কাছ খেকে ০৮শতাংশ জমি ২০১৭ সালে সাব-কবলা দলিল মুলে ক্রয় করে খাজনা-খারিজ করে ভোগদখলে নিয়ত আছে। কিন্তু বর্তমানে ওই জমির দাম হঠাৎ অনেক বেড়ে যাওয়ায় তার নিকট বাড়তি টাকা দাবি করে। আমি কিছু টাকা দিয়েছিও কিন্তু বর্তমানে আমার কাছে আরো টাকা দাবি করলে আমি দিতে অসমর্থ হলে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে আমাকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।



এরই মধ্যে বিবাদীগন গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের সঙ্গে অজ্ঞাত নামা আরো ৪/৫ জনকে নিয়ে প্রথমে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে আমার ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৬লক্ষ টাকা এবং ক্যাশ কাউন্টারের পাশের একটি গ্লাস ভাংচুর করে। পরে বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে আরো আনুমানিক ৩৫হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে আমি চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৪/৫ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করি। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী ইমাম মুসলিম হোটেলের মালিক মো: লিটন হোসেন জানান, গতকাল রাতে আমার পাশের একটি রড সিমেন্টের দোকানে ঝগড়া-বিবাদের শব্দ শুনতে পাই। পরে আমার দোকান থেকে এগিয়ে ওখানে গিয়ে দেখি আমার পাশের চায়ের দোকানদার সাইদুল, তার স্ত্রী সাবিনা, সাবিনার ভাই স্বাধীনসহ ওই দোকানের ভেতর দস্তাদস্তি করছে। একপর্যায়ে এদের মধ্যে একজন ওই দোকানের ক্যাশ কাউন্টারের পাশে থাকা একটি গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে। পরে আরো লোকজন এগিয়ে এলে আমি আমার দোকানে চলে আছি।

এব্যাপারে বিবাদী স্বাধীন এর বাসার ভাড়াটিয়া মোছা: রাবেয়া বেগম জানান, আমি গত রাতের ঝগড়া ঝাটির কথা শুনেছি। এর পর আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুনরায় ঝগড়া ঝাটি শুরু হয়। আমি পাশেই রান্নাঘরে রান্না করছিলাম। এসময় উভয়ের মধ্যে ঝগড়া ঝাটি শুরু হলে আমি এগিয়ে গেলে স্বাধীনের হাতে একটি লাঠি দেখতে পেয়ে তার হাত থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে যাই। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুপক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

এ ঘটনায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইনুল হক জানান, ঘটানায় শনিবার রাতে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ঘটনার সাথে জড়িত আটককৃত তিন আসামীকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এব্যাপারে কিছু বলতে পারবনা। ওসি স্যার তাদের চেড়ে দিয়েছে। তাদের কেন ছেড়ে দিল আপনার জানার দরকার হলে ওসি স্যারকে জিজ্ঞেস করেন।  
 

এবিএন/আলমগীর হোসেন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food