মদনে নির্মাণাধীন প্রতিরক্ষা দেয়ালে ফাটল : শংকায় এলাকাবাসী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২২

কাজ শেষ হতে না হতেই প্রতিরক্ষা দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মিত কাজের স্থায়ীত্ব নিয়ে শংকায় পড়েছেন এলাকাবাসী।

 মগড়া নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার লক্ষে মদন-ফতেপুর এলজিইডি সড়কে শ্রীধরপুর থেকে বালালী বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তাসহ ১৬৫ মিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ কাজ চলছে। 

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়,রাস্তা রক্ষনাবেক্ষণ (এলজিইডি) প্রকল্পের আওতাধীন শ্রীধরপুর থেকে বালালী বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তাসহ ১৬৫ মিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ কাজে ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। নেত্রকোণার ঠিকাদার শ্যামল চন্দ্রসাহা ৩ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে উক্ত প্রকল্প কাজের কার্যাদেশ পান।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ থাকলেও ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করে বিলম্বে তড়িগড়ি করে  সিডিউল বর্হিভূত নিন্মমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী খুঁটি না পুতে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করায় সিমেন্ট না দিয়ে শুধু বালিভর্তি গানিব্যাগ দেয়ায় কাজ শেষ হতে না হতেই দেয়াল ফেটে নদীতে ঝুলে রয়েছে। যেকোন মূহুর্তে ধসে প্রতি রক্ষা দেয়াল  নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় আশষ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হক মিয়া,কামাল মিয়া,সোহেল মেম্বার,হুমায়ন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোঃ জুলফিকার অভিযোগ করে বলেন,ঠিকাদার সময় মতো কাজ শুরু না করে হঠাৎ তড়িগড়ি করে নামে মাত্র পিলার পুতে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করায় এবং এর পাশে সিমেন্টের সাথে বালি না  মিশিয়ে  শুধু বালি ভর্তি  বস্তা দিয়ে  প্রতিরক্ষা দেয়াল নিমার্ণ  করছে। নিন্ম মানের কাজ করায় এ কাজ শেষ হতে না হতেই দেয়ালে ফাটল ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। যে কোন মূহুর্তে বস্তাসহ প্রতিরক্ষা দেয়াল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাদের দাবি সিসি ব্লক দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একাজের স্থায়ীত্ব বাড়বে। ফাটলের পর থেকে  গত দু’দিন ধরে বস্তা ভিজিয়ে বালির সাথে সামান্য সিমেন্টে  মিশিয়ে গানিব্যাগ তৈরি করছে ঠিকাদারের লোকজন।

উক্ত প্রকল্প কাজের ঠিকাদারের অংশীদার প্রবীর বাবু মোবাইল ফোনে জানান,ডিজাইন দূর্বল হওয়ায় প্রতিরক্ষা  দেয়ালে ফাটল ধরে ভাঙন ধরেছে। তবে আমরা সিডিউল মোতাবেক কাজ বাস্তবায়ন করছি।  এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। ভাঙনের জায়গাটি সংস্কারসহ সিমেন্ট ছাড়া শুধু বালি ভর্তি গানিব্যাগ গুলো সড়িয়ে ফেলা হবে।   কিন্তু প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করলেও এ পর্যন্ত কোন বিল পাইনি।

মদন উপজেলা প্রকৌশলী আমিনূল ইসলাম মৃদা জানান ,মগড়ানদী খননের পূর্বে কাজের প্রাক্কলন তৈরি করায় ডিজাইন দূর্বল হয়।  যার কারণে কাজের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে রাস্তাটি ঝুঁিকপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঠিকাদার কে কাজটি সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে। কাজ শেষ না করলে কোন বিল দেয়া হবে না।   

 
এবিএন/তোফাজ্জল হোসেন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ