ছাত্রকে ৭৩ বেত্রাঘাত করায় শিক্ষক বহিস্কার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫৮

হোমওয়ার্ক করে না আনায় নারায়ণগঞ্জে চেইঞ্জেস স্কুল নামের ইংরেজি মাধ্যম একটি বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ৭৩ বেত্রাঘাত করায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিস্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেঞ্জেস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা আলোচনার মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুলকে বহিস্কারের এ সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে ১৬ এপ্রিল দুপুরে চেঞ্জেস স্কুলের চাঁদমারী ক্যাম্পাসে আইসিটি বিষয়ে হোমওয়ার্ক করে না আনায় ৭ম শ্রেণীর ছাত্র সৈকত কুমার পালকে ৭৩ টি বেত্রাঘাত করে আহত করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে তার শহরের খানপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঘটনাটি স্কুল কর্তৃপক্ষ খুব গুরংত্বসহ কারে খতিয়ে দেখে ৩ জন পরিচালক, অভিভাবক ও শিক্ষকদের যৌথ সিদ্ধান্তে আইসিটি শিক্ষক নাজমুলকে বহিস্কার করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এই সিদ্ধান্তে নির্যাতিত শিক্ষার্থীরি পিতা সুরিথ পাল সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আহত শিক্ষার্থী সৈকত কুমারের বাবা সুরিথ কুমার পাল জানান, ওই শিক্ষক হয়তো মানসিক অসুস্থ্য ব্যক্তি। কারন, কোন সুস্থ্য মানুষ এমন কাজ করতে পারে না। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট। তাই এখন আর অন্য কোন স্টেপে যাবো না।

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জিএম ফারুক জানান, ‘আমাদের স্কুল যখন ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ওই সময় থেকেই আমাদের বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলে শাসন করতে শিক্ষকদের নিষেধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও কালকের এই ঘটনা অত্যান্ত দু:খজনক। ’প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওয়াল্ড হাইস্ট মার্ক পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্কলার শিফট নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, যেমন কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পড়া শুনা করছে। কেউ আবার উচ্চ পর্যায়ের কাজ, গবেষণা মূলক কাজ করছে।

জিএম ফারকের ভাষ্যমতে, ‘বাবা মায়ের শিক্ষার পরে যেখান থেকে শিশুরা শিখে, সেটা হলো স্কুল। এই স্কুলে যখন শিক্ষার্থীরা আসবে, তখন তারা নীতি, নৈতিকতা আর মূল্যবোধটা শিখবে। আগামীতে কোন শিক্ষক যাতে কোন শিক্ষার্থীর প্রতি এ ধরণের মারমুখি আচরণ না করে, সে জন্যই তাৎক্ষণিক ওই শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়েছে।’

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ