ভূঞাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৪৪

এপ্রিল ফুলকে স্মরণীয় রাখতে চেয়েছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বাসুদেবকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক। ১লা এপ্রিল তিনি ওই বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর স্থানে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে।

গত কয়েকদিন স্থানীয় লোকজন দিয়ে ঘটনার ধামাচাপার চেষ্টা করা হলেও আজ রবিবার ওই ছাত্রী বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়াও ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক উপজেলার ফলদা চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বাসুদেবকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ১লা এপ্রিল সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ খালেক তাকে নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। এসময় ওই ছাত্রী বাইরে বের হতে চাইলে তাকে জড়িয়ে ধরে বুকে ও আপত্তিকর অঙ্গে হাত দেয়। ছাত্রীটি চিৎকার করতে চাইলে বাঁধা দিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে জোরে চিৎকার দিলে প্রধান শিক্ষক তাকে ছেড়ে দেয়। শিক্ষক আব্দুল খালেকের রোষানলে থেকে বেরিয়ে ছাত্রীটি আর ক্লাসে না গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে তার মা ও ভাবীর কাছে ঘটনাটি খুলে বলে।

 পরে বিষয়টি স্থানীয় মাতাব্বর ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কাছে জানালেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বিচার চেয়ে রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়াও ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি আব্দুল খালেক সরকার জানান, মেয়েটির পরিবার এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিল। প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে ঘটনাটি সত্য, আমি এর দৃষ্টান্ত মূলক বিচার চাই।

ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো: রাশিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুরে এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে । অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ বলেন, মেয়েটির একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমান পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

অভিযোগ রয়েছে এর আগেও শিক্ষক আব্দুল খালেক ভূঞাপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাবস্থায় সহকর্মী শিক্ষিকাদের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে সেটি জানাজানি হলে তদন্তের মাধ্যমে খালেককে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি  হিসেবে চর বাসুদেবকোল স্কুলে বদলি করা হয়। সেখানে যোগদান করে তার কুরুচিপূর্ণ চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটান চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর ওপর।


এবিএন/কামাল হোসেন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ