পটুয়াখালী দক্ষিণাঞ্চলে বাজারে সয়লাব হাইব্রিড জাতের তরমুজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৯

পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রাকৃতিক দূর্যোগজনিত কারনে অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় এবার তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তর অফিস সূত্রের ধারনা, এবার অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ার কারনে ৩০ শতাংশ তরমুজ নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকলেও এবার বাম্পার ফলনের কারনে বিপুল লাভের মুখ দেখবে তরমুজ চাষীরা।

সরজমিন ও তথ্য অনুযায়ী এবছর গলাচিপা  উপজেলায়  প্রায় ১ শত ৫০ একর জমিতে হাইব্রিড জাতীয় বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন অধিকাংশ কৃষকরা। তাদের ক্ষেতের তরমুজের কোনটার ভিতর হলুদ, লাল ও কমলা রঙের বর্ন দেখা যায়।

গলাচিপার উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তারা জানান হিসাব অনুযায়ী ৭ হাজার ৬শত হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে কয়েকগুন বেশী। প্রতি হেক্টরে ৩৫ টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা ছিল।

 কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে ৩০ শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বীজ জনিত ও অতিবৃষ্টির কারনে অনেক চাষীর তরমুজ  ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়লেও এ সব কিছুর মধ্যেও ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকার এবং মহাজনরা তরমুজ চাষ কবলিত এলাকায় ভীড় করছেন বলে প্রান্তিক চাষিরা প্রতিবেদককে জানান ।

চরকাজল ইউনিয়নের মো.রত্তন বেপারী জানান, তিনি এবার ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তরমুজের চাষ করতে গিয়ে তার মোট খরচ হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। তিনি আশা করেছিলেন, তরমুজ বাদ দিয়ে ২৩-২৪ লক্ষ টাকা লাভ করবেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগে উপজেলায় আমখোলা, গোলখালী, ডাকুয়া, বকুল বাঁড়ীয়া, গলাচিপা পৌরসভা, কলাগাছিয়া, চিকনিকান্দি, গলাচিপা সদর, পানপট্টি, রতনদি-তালতলী, গজালিয়া, চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই তরমুজের ক্ষেতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় সবাই তরমুজ কাটা আর মহাজনের হাতে তুলে দেওয়া সহ ক্ষেত পরিচর্যায় কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


চরকাজলের তরমুজ চাষী মো.রত্তন ব্যাপারীর ম্যাজিক- চরকাজল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড চর কপালবেরা এলাকার বৃদ্ধ রত্তন বেপারী। তিনি প্রতি বছরই কম-বেশী তরমুজ আবাদ করে থাকেন। তেঁতুলিয়া নদীর তীরে তিনি এবার ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তার তরমুজ ক্ষেত চাষীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মো. রত্তন বেপারী ২৫ একরের ভিতরে ১৫ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এ গুলোর ভেতরটা হলুদ, লাল ও কমলা রংয়ের হয়। খেতেও বেশ মিষ্টি। আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা যদি অনুকূলে থাকে, হাইব্রিড এ তরমুজ চাষে রত্তন বেপারী এবার প্রায় ১০- ১১ লক্ষ টাকার ওপর লাভ করতে পারবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ্ জানান, সামনে আর কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে গলাচিপা উপজেলায় যে তরমুজ ক্ষেত এখনও ভাল আছে, তাতেও কৃষকরা অনেক লাভবান হবে। আমন ধান উঠার সাথে সাথে যে সব রবি ফসল চাষ হয় তারমধ্যে তরমুজ ইতিমধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। এবং সাবলম্ভী তরমুজ চাষিদের সর্বদা মঙ্গল কামনায় প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী পাশে থাকবে অভিমত প্রকাশ করেন।

এবিএন/জুয়েল/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food