ছেঁউড়িয়ায় তিনদিনের লালন স্মরণোৎসব শুরু

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০১৯, ২২:২৬

আজ বুধবার থেকে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আঁখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপি লালন স্মরণোৎসব।  সেই সাথে বসবে গ্রামীন মেলাও।  সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিভাবে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজারে ৩দিন ব্যাপী স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করা হবে। এ লালন স্মরণোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশি ও বিদেশী লাখো বাউল ভক্তদের আগমন হবে লালন আঁখড়াবাড়িতে।

এবারের আয়োজনে মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজির অমর বানী “মনের গরল যাবে যখন, সুধাময় সব দেখবি তখন” প্রতিপাদ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমীর আয়াজনে এ লালন স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ। আলোচনা সভা শেষে মঞ্চে শুরু হবে লালন সঙ্গীত। লালন একাডেমীর শিল্পীরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত খ্যাতনামা বাউল শিল্পীরা লালন সংগীত পরিবেশন করবেন।

বাউলদের খাটি করে গড়ে তুলতে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ তার জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার এই নিজ আখড়া বাড়িতে প্রতি বছর চৈত্রের দৌলপূর্ণিমা রাতে বাউলদের নিয়ে সাধু সঙ্গ উৎসব করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার মৃত্যুর পরও এ উৎসব চালিয়ে আসছে তার অনুসারীরা। প্রতিবারের মত এবারও আধ্যাত্বিক গুরু ফকির লালনকে স্মরণ ও তার দর্শন পাওয়াসহ অচেনাকে চেনা, জ্ঞান সঞ্চয়, আত্মার শুদ্ধি ও মুক্তির লক্ষে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী, ভক্ত অনুরাগী আর দর্শনার্থীরা এখন এই আখড়াবাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।

আখড়াবাড়ী চত্বরে কালী নদীর তীরে বিশাল মাঠে জমে উঠেছে লালন মেলা। আর আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে লালন অনুসারী, ভক্তদের খন্ড খন্ড সাধু আস্তানায় গুরু শিষ্যের মধ্যে চলছে লালনের জীবন কর্ম নিয়ে আলোচনা ও তার গান। তিনদিন ব্যাপী এই লালন উৎসব শেষ হবে শুক্রবার।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, লালন স্মরণোৎসব ও গ্রামীন মেলাকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গন ও তার আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো মাজার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। জেলা পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এবিএন/এ.এইচ.এম.আরিফ/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ