মশার যন্ত্রনায় ভূগছেন সিলেটবাসী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৬:১৫

নগরে বেড়েছে মশার দৌরাত্ম্য। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জন-জীবন। দিনে রাতে পাল্লা দিয়ে চলছে মশার রাজত্ব। হঠাৎ করেই মশার উপদ্রব বাড়ায় নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক। তবে এতে নজর নেই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক)। নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন সময় সময় স্প্রে করলেও মশার উপদ্রব কমাতে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সিসিক কতৃপক্ষ বলছে, অপরিকল্পিত নগরায়নই মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে মশার উপদ্রব কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নগরীতে মশার ঔষধ চলতি মাসে কিংবা আগামী মাসে ছিটানো হবে। এজন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার লিটার ঔষধ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ঔষধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার খামার বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। তার রিপোর্টও এসেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ঔষধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চলতি সপ্তাহে আমাদের ঔষধ বুঝিয়ে দেবে। তারপরই নগরীতে একযুগে ঔষধ ছিটানো হবে। সিটি করপোরেশনের কাছে নগরবাসীর দাবি, অতি দ্রুত মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা এবং ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা।

এদিকে নগরীতে মশার উৎপাতে বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। সন্ধ্যার আগেই বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করেও এর কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উপদ্রব বেড়েছে। নগরবাসী বলছেন, মশার উপদ্রব ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। দিনের বেলা চায়ের দোকান কিংবা খোলা জায়গাও মশায় কামড়ায়। কয়েল জ্বালিয়ে, ওষুধ ছিটিয়ে, মশারি টানিয়ে মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। দিনে বাচ্চাদের মশারি টানিয়ে ঘুম পাড়াতে হচ্ছে।

‘আবার মশারির ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া মশা মারতে গিয়ে রাতের ঘুম হচ্ছে নষ্ট’,-বলছিলেন মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেট ইন্টারন্যশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষর্থী শামীমাবাদ এলাকার বাসিন্দা অসীম কুমার দাশ। তিনি বলেন, বিকেল থেকেই মশার উপদ্রব শুরু হয়। মশার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এছাড়া নগরের বিভিন্ন মাঠের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ জমে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশী ভুক্তভোগী হচ্ছে এলাকার শিশুরা। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মশার চরম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। কোথাও এক মিনিটও নিরাপদে বসা যাচ্ছে না’- কথাগুলো বলেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নগরের পাঠানটুলা এলাকার বাসিন্দা আনিশা আলম আশা। তিনি বলেন, মশার উৎপাত এতোটাই বেশি যে, দরজা-জানালা খুলে রাখার উপায় নেই। মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের তৎপরতায় খুশি নন তিনি। তার অভিযোগ, মশা যেভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে সিটি করপোরেশনের কোনো তৎপরতা নেই।  

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে মশার ঔষধ ছিটানো হবে। তবে কোনও কারণে কয়েকদিন দেরি হলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে একসাথে মশার ঔষধ ছিটানো হবে। আগেরবার প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০ জন কর্মী নিয়ে দু দিনের মধ্যে মশার ঔষধ ছিটানো শেষ করেছিলাম। তবে এবার আমরা আরও দীর্ঘস্থায়ী অর্থাৎ ৭ দিনব্যাপী প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার ঔষধ ছিটানোর পরিকল্পনা আছে। সেই লক্ষে আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, শুধু মশার ঔষধ ছিটালেই হবে না। একই সাথে নগরীর ছড়া-নালা পরিষ্কার করতে হবে। কারণ একটি মশা মাত্র পাঁচ দিন বাঁচে। কিন্তু এই পাঁচ দিনে মশা প্রচুর পরিমাণে বংশ বৃদ্ধি করে। সেই জন্য নগরবাসীর সহযোগিতায় নগরীকে পরিষ্কার ও পরিছন্ন রাখতে হবে। এতে করে মশার বংশ বৃদ্ধি রোধ হবে।


এবিএন/মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food