জগন্নাথপুরে ব্রীজের বেহাল দশায় জনগণ দুর্ভোগে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০১৯, ১৩:১৩

সুনামগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুইটি উপজেলা জগন্নাথপুর ও দিরাই। এই দুই  উপজেলা মধ্যে সহজতর যোগাযোগের একমাত্র রাস্তায় স্থাপিত ব্রিজের দুই পাশের এ্যাপ্রোচের মাটি না থাকায় ব্রীজটি অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুই উপজেলার জনগণ।  

প্রতি বছর হেমন্ত মৌসুমে ব্রীজের দুই পাশের এ্যাপ্রোচে সামান্য মাটি ভরাট করা হলেও বর্ষা মৌসুমে নলুয়ার হাওরের পানির প্রবল ঢেউয়ে মাটিগুলো সরে যায়।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের উদ্যোগে জগন্নাথপুর ও দিরাইবাসীর যোগাযোগের জন্য কবিরপুর থেকে নলুয়ার হাওরের মধ্যস্থান দিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার শেষ সীমান্ত  ভূরাখালি পর্যন্ত  ১০ কিলোমিটার একটি ডুবন্ত রাস্তা নির্মাণ করেন। রাস্তা নির্মাণের পর দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের সুবিদার জন্য ভূরাখলি বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত কামারখালি নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। 

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের উদ্যোগে কামারখালী নদীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে জগন্নাথপুর ও দিরাইবাসীর  যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরী  হয় । শুধু ব্রিজের দুই পাশে মাত্র কয়েক শত মিটার রাস্তা না থাকায় ব্রীজটি  অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। 

স্থানীয়দের অভিমত, ব্রিজের এ্যাপ্রোচটি মাটি ভরাট করে পাকা করণ করা হলে জনসাধারণের ভোগান্তি লাগব হবে। 

এ ব্যাপারে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রনধীর কান্তি দাস (রান্টু) ও উপজেলা হাওর উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্রিজের দুই পাশে রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। এতে দুই উপজেলার জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। 

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা  এলজিইডি  প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, কবিরপুর থেকে ভূরাখলি পর্যন্ত রাস্তাটি জগন্নাথপুর এলজিইডি করলেও ব্রীজটি নির্মাণ করেছে দিরাই এলজিইডি। তবে জগন্নাথপুর অংশের  ব্রীজ পর্যন্ত মাত্র ৩০০ মিটার রাস্তার  কাজ শেষ করতে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

দিরাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ ইফতেখার হোসেন বলেন, অচিরেই ব্রীজ থেকে দিরাই অংশের  বাকী কাজ করা হবে। দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ব্রীজ চলাচলের উপযোগী ও জরুরী ভিত্তিতে ব্রীজের দুই পাশের এ্যাপ্রোচসহ রাস্তা নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেও প্রতি আহবান জানিয়েছেন। 

এবিএন/রিয়াজ রহমান/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food