তাহিরপুরে জামাই-শ্বশুরের মাদকের জমজমাট বাণিজ্য

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:১২

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট ও চাঁরাগাঁও সীমান্তে জামাই ও শ্বশুরের জমজমাট মাদক ও চাঁদাবাজি বাণিজ্যসহ লাউড়গড় সীমান্তে উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে পরিবেশ নষ্টকারী ডিজেল চালিত পাওয়ার টিলার ইঞ্জিন মেশিন দিয়ে সীমান্তের ১২০৩নং পিলার সংলগ্ন যাদুকাটা নদীর জিরো পয়েন্ট ও ভারত সীমান্তের ভিতরে প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ মৃত্যুকুপ নামের কোয়ারী নির্মাণ করে প্রতিদিন হাজারহাজার মে.টন পাথর উত্তোলন করে কোটিকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ১টি প্রভাবশালী মহল জোর তৎপরতা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। 

এলাকাবাসী জানায়, বর্তমানে জেলহাজতে থাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী সোর্স কালাম মিয়ার চাচা শ্বশুর চিহ্নিত চোরাচালানী রহমত আলী তার মেয়ের জামাই আইয়ুব আলী সোর্স কালাম মিয়া জেলে থাকার কারণে বালিয়াঘাট সীমান্তের লালঘাট ও লাকমা এলাকার দায়িত্ব নেয় এবং তাদের সহযোগী চাঁদাবাজি মামলার জেলখাটা আসামি দুধের আউটা গ্রামের জিয়াউর রহমান জিয়া, কয়লা পাচাঁর মামলার আসামি লালঘাট গ্রামের জানু মিয়া ও লাকমা গ্রামের বাবুল মিয়া, বিজিবির ওপর হামলার মামলার আসামি লালঘাট গ্রামের আব্দুর রউফ ও আব্দুল আলী ভান্ডারী, টেকেরঘাট গ্রামের অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার আসামি ইয়াবা ব্যবসায়ী ল্যাংড়া বাবুল, লালঘাট গ্রামের বিজিবি ও বিএসএফের সোর্স পরিচয়ধারী রমজান মিয়া, নুর জামাল, ইসব আলী, সোহেল মিয়া ও বুঙ্গড়াছড়া গ্রামের ফিরোজ মিয়া, বড়ছড়া গ্রামের কামাল মিয়াকে নিয়ে সিন্ডিকেডের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে লাকড়ি ও কাঠের সাথে মদ, গাঁজা ও ইয়াবা পাচাঁর করে লালঘাট ও লাকমা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে মজুত করে। 

পরে এসব অবৈধ মালামাল সপ্তাহের ২ দিন শুক্রবার ও সোমবার হাটবারে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন নতুনবাজার ও দুধের আউটাসহ বানিয়াগাঁও, কলাগাঁও, রজনীলাইন গ্রামে নিয়ে ওপেন বিক্রি করে। 

এজন্য পাচাঁরকৃত মালামালের মধ্যে ১টি ফালী (ভারতীয় কাঠ) থেকে ১২০ টাকা, এক ঠেলাগাড়ি লাকড়ি থেকে ৩০০ টাকা নেওয়াসহ মদ, গাঁজা ও ইয়াবা পাচাঁরের জন্য সপ্তাহে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নামে নিচ্ছে শ্বশুর রহমত আলী, জামাই আইয়ুব আলীসহ তাদের সহযোগী জিয়াউর রহমান জিয়া, ফিরোজ মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল আলী ভান্ডারী। 

এ ব্যাপারে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার হান্নান বলেন, আমাদের ক্যাম্পের সোর্সের দায়িত্ব কাদেরকে দেওয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে বলতে পারবনা, খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। 

সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মাকসুদুল আলম বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কোন সোর্স নাই, চোরাচালান ও চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এবিএন/মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া/গালিব/জসিম
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food