লালমনিরহাটে গণশিক্ষা কেন্দ্রে নিন্মমানের উপকরণ সরবরাহ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৫

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মৌলিক সাক্ষরতা কেন্দ্র গুলোতে নিন্মমানের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে মানসম্মত উপকরণ সরবরাহ করার জন্য আরশিনগর এনজিওকে নিদের্শ দিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (উশিব্যু)। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহমান এক পত্রে নিদের্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি তদন্ত পূর্বক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (উশিব্যু) কে অবহিত করার জন্য ওই অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমানকে নিদের্শ দেয়া হয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (উশিব্যু)’র হাতীবান্ধা প্রোগ্রাম অফিসার রাশেদুল ইসলাম মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে মৌলিক সাক্ষরতা কেন্দ্র গুলোতে নিন্মমানের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। 

জানা গেছে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় মৌলিক সাক্ষরতা (গণশিক্ষা) প্রকল্প নামে একটি কর্মসূচী চালু করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। ওই প্রকল্পের আওতায় হাতীবান্ধায় ৩ শত শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় আরশিনগর বাংলাদেশ নামক একটি স্থানীয় এনজিও। শুরুতেই এনজিও টির বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। পরে শিক্ষা উপকরণ বাবদ ওই এনজিওটির নামে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসলেও নাম মাত্র নিন্মমানের উপকরণ সরবরাহ করে বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এনজিও টির বিরুদ্ধে। 

এ সংক্রান্ত একাধিক সংবাদ বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালন আব্দুর রহমানের নজরে আসে। পরে ওই প্রকল্পের হাতীবান্ধা প্রেগ্রাম অফিসার রাশেদুল ইসলাম গত ৪ ফেব্রুয়ারি এনজিও আরশিনগর বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক বাদশা আলমকে কারণ দর্শানোর নেটিশ প্রদান করেন। ওই নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু মহিলা কেন্দ্র চালু থাকলে দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোনো পুরুষ কেন্দ্র চালু হয়নি। কেন্দ্র গুলোতে তালাচাবি, হারিকেন, তেলসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়নি। এ ছাড়া জরিপের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দীর্ঘ দিন আগে উত্তোলন করা হলেও তা জরিপকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। 

এ ছাড়া পুরো বিষয়টি নিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো তদন্ত করেন এবং নিন্মমানের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের সত্যতা পায়। ফলে আগামী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে মান সম্মত উপকরন সরবরাহ করার জন্য আরশিনগর বাংলাদেশ এনজিওকে নিদের্শ দিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

সড়ে জমিনে হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ৩ শত কেন্দ্রের মধ্যে বেশি ভাগ কেন্দ্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। এ ছাড়া এমন কিছু কেন্দ্র আছে যা খুজে পাওয়া যায়নি। তালিকায় সিঙ্গিমারী আলিমের ডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্লিনিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে দুইটি কেন্দ্র থাকলেও ওই নামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দুই একটি কেন্দ্র খুজে পাওয়া গেলেও তা রান্না ঘর ও গরু রাখার ঘরে অবস্থিত। হাতীবান্ধার উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের নছিমুদ্দিনের বাড়ি মৌলিক সাক্ষরতা (গণশিক্ষা) প্রকল্পের কেন্দ্রটি পাশ্ববর্তী মৃত আজিজের বাড়িতে রান্না ঘরে অবস্থিত। 

আরশিনগর বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক বাদশা আলম এনজিওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ গুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ্য করে বলেন, শিক্ষক নিয়োগে এনজিওর কোনো হাত ছিলো না। স্থানীয় প্রশাসন আমাকে সহযোগিতা করছে না এবং স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে আমি সঠিক ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছি না। 

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের পরিচালক আব্দুর রহমান জানান, আমরা প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। মানসম্মত উপকরণ সরবরাহের নিদের্শ দেয়া হয়েছে। তা সরবরাহ না করলেওই এনজিও’র বিরুদ্ধে প্রয়োজনে মামলা দায়ের করা হবে। 

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন জানান, মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও আরশিনগর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মানসম্মত উপকরণ সরবরাহের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ওই এনজিওকে  ৫ দিন সময় দিয়েছে। 

এবিএন/আসাদুজ্জামান সাজু/গালিব/জসিম
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ