সোনাগাজীতে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সবজি চাষ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:০০

সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ উঠেছে। খেলার মাঠ দখলের সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাসহ স্থানীয় আরো কয়েক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

বিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দাবী যথাযথ কর্তৃপক্ষ যেন খেলার মাঠ ও বিদ্যালয়ের ভূমি পূনরুদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠটি জাল দিয়ে ঘিরে ভিতরে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন স্থানীয় আবদুল ওহাব ও সামছুল হক গং। পিছনের অংশ দখলে রেখেছে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকা ফেরদৌস আরা ।তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও অদৃশ্য শক্তির কারনে প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানান বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুল মান্নান।

জানা গেছে, হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা হাজী সুলতান আহম্মদ ২৫ শতক ও হাজী জাগীর আহম্মদ ২৫ শতক মোট ৫০ শতক জমি সাফ কবলামূলে দান করেন।

বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনের ১০ শতক জমি ছাড়া খেলার মাঠ পুকুর সহ বাকী ৪০ শতক ভুমি দখল করে রেখেছে দাতা সুলতান আহম্মদের নাতনী বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা ও হাজী জাগীর আহম্মদের নাতী মুসা খান। মুসা খান পার্শ্ববতী ৩০৫ দাগে ভুমি দখল করে রাখলে ক্ষিপ্ত হয়ে ৩০৪ দাগের বিদ্যালয়ের মাঠ দখলে নেন ৩০৫ দাগের মালিক আবদুল ওহাব ও সামছুল হক গং। দখলে থাকা প্রত্যেকে দখলকৃত ভুমি মালিকানা দাবি করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করে।এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধীকবার শালিশ বৈঠক হলেও বিষয়ংটি সমাধান করা যায়নি।

হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন,আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলার কোন মাঠ নেই। মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীদের শারিরীক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত মাঠ নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সামাধান করে দেয়া।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফেরদৌস আরা ও মুসা খান ভূমির মালিকানা দাবী করে বিদ্যলয়ের মাঠ দখলে রাখলেও প্রতিবেদককে কাগজপত্র দেখাতে এবং কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে।

 উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান জানান,ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি ও শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ পূনরুদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগীতা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহেল পারভেজ  বলেন, মাঠ দকল করার ষিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি ভুমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে ভূমির জটিলতা দ্রুত নিরসন করতে, ভূমির জটিলতা নিরসন হলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সহ সকল ভূমি পূনরুদ্ধার করতে পারবো।


এবিএন/আবুল হোসেন রিপন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food