সুন্দরগঞ্জে ফসল নিয়ে বিপাকে চরাঞ্চলের কৃষকরা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৩

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সংরক্ষণাগার না থাকায় উৎপাদিত ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যতই দিন যাচ্ছে ততই কৃষিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে তিস্তার চরাঞ্চল। খরিপ এবং রবি মৌসুমের বেশিরভাগ ফসল চরে উৎপাদিত হলেও উত্তরাঞ্চলের কোথাও সংরক্ষণাগার না থাকায় ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। 

এতে করে বিভিন্ন প্রকার ফসল আলু, মরিচ, পিয়াজ, বেগুনসহ অন্যান্য ফসল সংরক্ষণ করতে না পারায় কৃষক তা পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসান গুনছেন। তিস্তার ধূ-ধূ বালুচরে চলতি মৌসুমে মরিচের ভাল ফলন দেখা দিয়েছে। মরিচসহ নানাবিধ ফসলে ভরে উঠেছে তিস্তার চরাঞ্চল। জমি জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবারগুলো পুনরায় চরে ফিরে এসে চাষাবাদের দিকে ঝুকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন পর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া জমির ফসল ঘরে তুলতে পেরে কৃষকরা বেজায় খুশি। 

উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর, কঞ্চিবাড়ী ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তা নদী এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। এসব চরাঞ্চলের হাজার-হাজার হেক্টর জমিতে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানাবিধ প্রজাতির ফসল। 

বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টা, আলু, বেগুন, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাদাম, সরিষা, তিল, তিশি, তামাক, কুমড়া ও মুসুড় ডালসহ বিভিন্ন শাকসবজি। কথা হয় কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গীজানি গ্রামের মরিচ চাষি রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, এ বছর চরে অনেক জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে। তিনি নিজে দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। যদি মরিচ, পিঁয়াজ সংরক্ষণ করা যেত তা হলে ভাল দাম পাওয়া যেত। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০ হতে ২৫ মণ মরিচ পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য ৩২ হতে ৪০ হাজার টাকা। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, চরাঞ্চলের জমিতে এখন নানাবিধ ফসলের ভাল ফলন হয়। সে কারণে চরের মানুষ এখন অনেক সুখি। ফসল সংরক্ষণ করতে পারলে আরও দাম পাওয়া যেত। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান, পলি জমে থাকার কারণে চরের জমি অনেক উর্বর। যার কারণে যে কোন প্রকার ফসলের ফলন ভাল হয়। তিনি বলেন, চরের কৃষকরা নিজে পরিজন নিয়ে জমিতে কাজ করেন। সেই কারণে তারা অনেক লাভবান হয়। সংরক্ষণাগার একটি ব্যয়বহুল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তা অনেকে স্থাপন করতে চায় না।

এবিএন/শাহ মোঃ রেদওয়ানুর রহমান/গালিব/জসিম
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food