বগুড়ার শেরপুরে ৩ সন্তানের জননীকে ধর্ষণ : থানায় মামলা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৭

বগুড়ার শেরপুরের দড়িমকুন্দ গ্রামে জেসমিন বেগম নামের ৩ সন্তানের জননীকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করার ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতে লম্পট ফটিকের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় ধর্ষিতা মামলা দায়ের করেছেন।

তবে এ ঘটনায় স্থানয়িভাবে মিমাংসার বৈঠক থেকে লম্পট ফটিককে তার দুই ছেলে শাহ আলম ও শাহাদৎসহ ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসীরা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর পূর্বে বিয়ে হওয়া জেসমিন ও তার স্বামী খোরশেদ আলমসহ সন্তানদের নিয়ে মিল-চাতালে কাজ করে সুখে সংসার করে আসছিল। প্রতিদিনের ন্যায় জেসমিন গত শুক্রবার রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়ার এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে প্রকৃতির ডাকে বাড়ির পাশে বাথরুমে যায়।

এসময় পূর্ব থেকেই ওৎপেতে থাকা একই গ্রামের লম্পট ফটিক মিয়া জেসমিনকে পিছন থেকে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাথরুমের পাশেই জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এদিকে জেসমিনের ধর্ষণ ও ধস্তাধস্তির কালে জেসমিনের প্রতিবেশী ভগ্নিপতি দুলাল হোসেন দৌড়ে গিয়ে লম্পট ফটিককে ধরে ফেলে। লম্পট ফটিক দুলালের হাত ছিটকে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার কালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট ঘটনাস্থলেই ফেলে যায়।

এ বিষয়ে পরদিন স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী, চাতাল মালিক সালাম, শফি, নাজিমসহ অন্যান্য মাতব্বরগন গ্রাম্য শালিশী বৈঠকে লম্পট ফটিককে হাজির করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য করলেও ওই ধর্ষক ফটিকের দুই ছেলে শাহ আলম ও শাহাদতের নেতৃত্বে ১৫/১৬জনের সন্ত্রাসী বাহিনী জরিমানার টাকা দিতে অস্বীকার করে এবং জোরপূর্বক বৈঠক থেকে ফটিককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে গতকাল শনিবার রাতে জেসমিন বাদি হয়ে ফটিকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর ইয়াকুব আলী বলেন-ধর্ষনের ঘটনায় শালিশি বৈঠকে আমি ছিলাম তবে আমি কোন সিদ্ধান্ত দেইনি। গোন্ডগোল শুরু হলে আমি ওই বৈঠক থেকে চলে আসি।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে, আসামী গ্রেফতারপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

এবিএন/শহিদুল ইসলাম শাওন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food