কালিহাতীতে মহাসড়কে ইটের সলিং, ধুলায় জন-জীবন বিপর্যস্ত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪১

উত্তরঙ্গের প্রবেশদ্বার কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে ইটের সলিং  কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিনরাত ধুলায় ধুসর থাকে। মহাসড়কে ইটের সলিং ধূলা সৃষ্টির প্রধান কারন। দীর্ঘদিন যাবত এই অবস্থার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।

 উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহসহ দেশের প্রায় ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করে এই মহাসড়ক দিয়ে। যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৪-১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া বাসস্ট্যান্ডের অদূরে রয়েছে এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এলেঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বালক উচ্চ বিদ্যালয়, হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, বৃহত্তর বাজার, ব্যাংক, বীমা অফিস, হাসপাতাল ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ অনেক কল-কারখানা। ফলে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন।

সরেজমিনে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দিয়ে দেখা যায় ধুলার কারনে মহাসড়কের পশ্চিম পাশ থেকে পূর্ব পাশের মানুষ দেখা যায় না। বাসস্ট্যান্ডে দুইপাশের দোকানগুলো ধুলায় সাদা হয়ে গেছে। বাসের জন্য অপেক্ষমান দাঁড়ানো যাত্রীরা মুখে কাপড় দিয়ে ধুলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের হোটেল ও দোকানগুলোর খাবারের উপর ধুলার আস্তর লেগে আছে।

টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজে অনার্স পড়–য়া শরীফ আহমেদ নামের এক ছাত্র বলেন আমাকে কলেজে যাবার জন্য এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠতে হয়। বাসস্ট্যান্ডে ৭/৮ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকলে সেই পোশাক পরে আর কলেজে যাওয়ার পরিবেশ থাকেনা।

 ধুলায় সারা শরীর নষ্ট হয়ে যায়। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে থেকে যাতায়াতকারী চাকরিজীবীরাও একই ধরনরে মন্তব্য করে বলেন যে কাপড় পরে বের হই, সেটা পরে অফিস করতে লজ্জা করে।

 ধুলায় পোশাক নষ্ট হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা আত্মীয়-স্বজনের বাসা-বাড়িতে যেতে বিব্রতবোধ করেন। বাসস্ট্যান্ডের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন ধুলার কারনে আমাদের দোকানে ক্রেতা কম আসে এবং কেনাবেচা কম হয়। এদিকে ধুলার মধ্যে যাতায়াত করতে করতে এই এলাকার শিশু বৃদ্ধসহ মানুষের মধ্যে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রকম বায়ু বাহিত রোগ।

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্বরত হাইওয়ে ইনর্চাজ বাসুদেব বলেন অসহনীয় ধূলার কারনে আমাদের ডিউটি করা খুব কষ্টকর ও ভয়াবহ হয়ে পরেছে। পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ শ^াসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অতিদ্রুত এই অবস্থার সমাধান প্রয়োজন।

 টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন ধুলা মানব দেহে নিয়মিত প্রবেশ করতে থাকলে শ^াসকষ্ট, ফুসফুসে ইনফেকশন এবং এ্যাজমা হবে। নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হবে, ঘ্রাণশক্তি কমে যাবে। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

এবিষয়ে এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী বলেন ধুলার কারনে এই এলাকার জন-জীবন বিপর্যস্ত।

 বিষয়টি আমি অনেকবার উপজেলা ও জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বলেছি। ৯ মাসেও কোন কাজ হয়নি। এতো গুরুত্পূর্ণ মহাসড়কে ইটের সলিং এটা খুবই হাস্যকর এবং বেমানান। সড়কের বাকি অংশ পাকা করে জনগণকে ধুলার জ¦ালা থেকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত।

এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান আমাদের সময়কে বলেন এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের ৩০০ মিটার সড়কে ইটের সলিং রয়েছে।

 এটুকু সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিউনাল ইকোনমিক কর্পোরেশন (সাসেক-২) কর্তৃপক্ষের পাকাকরনের কথা থাকলেও তারা করে নি। ইটের সলিং এবং যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারনে এই ধুলার সৃষ্টি হয়। জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তিনি আরো বলেন এই টুকু সড়ক অতি দ্রুত পাকা করা হবে।   


এবিএন/তারেক আহমেদ/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ