বদলগাছীতে মানবেতর জীবনযাপন করছে মৎস্যজীবীরা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৪

নওগাঁর বদলগাছীতে জলাশয়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপজেলার ৬২২ জন  মৎস্যজীবী। 

খোজ নিয়ে জানা যায় জলাশয়ের অভাবে মৎস্য আহরণ বা শিকার করতে না পারায় তাদের প্রায় ৩ হাজার পরিবারিক সদস্য-সদস্যা নিয়ে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে বলে মৎস্যজীবীদের ভাষ্যে জানা গেছে। 

বদলগাছী সদর উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ছোট যমুনা নদী এবং ৫২ একর আয়তন বিশিষ্ট নহেলা কাষ্টগাড়ী, পূর্ব বনগ্রাম, মামুদবিলা, মৌজা পাঁচঘরিয়া, বড় বিলা সহ খাল দোবা রয়েছে। 

এ ছাড়াও উপজেলায় রয়েছে ৮০টি খাস পুকুর। প্রাকৃতিক কারণে ছোট যমুনা নদীটি ভরাট হওয়ায় খরা মৌসুমে নদীটি হয়ে পড়ে পানি শূন্য। 

বড় বিলা বাদে নহেলা কাষ্টগাড়ী, পূর্ব বনগ্রাম, মামুদ বিলা, মৌজা পাঁচঘরিয়া এই ৪টি বিল ভিটা শ্রেনি দেখায়ে শ্রেণী পরিবর্তন করে আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। অথচ আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোতে ৫০% বসতি নেই। 

সড়কের দুইধারে নয়নজলি গুলো প্রভাবশালীদের দখলে। অপর দিকে ৮০টি খাস পুকুর অমৎস্যজীবী সমিতির নামে এবং ক্ষেত্র বিশেষে প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে কিছু টাকা দিয়ে প্রভাবশালীরা ঐ সমিতিগুলোর নামে পুকুর লীজ নিয়ে ভোগ দখল করে। 

উপরোক্ত কারনে উপজেলায় জলাশয়ের অভাব সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার জালালপুর পশ্চিম মধ্যপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভপিত এমরান এবং জালালপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান ও ভাতশাইল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলাল হোসেনসহ উপজেলার অনেকে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জানান। 

এ ছাড়া সরকারী পুখুর গুলো প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মুলধনের অভাবে পুকুর ডাকে তেমন অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে মৎস্য আহরণ বা শিকার করতে না পারায় তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে তাদের ভ্যাসে জানা যায়। 

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন উপজেলায় বিভিন্ন কারণে জলাশয়ের অভাব সৃষ্টি হওয়ায় মৎস্য আহরণ করতে না পারায় জেলে বা মৎস্যজীবীরা কষ্টে রয়েছে। 

এবিএন/হাফিজার রহমান/গালিব/জসিম 
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ