আটোয়ারীতে পাঁচ জয়িতার নাম চূড়ান্ত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মে ২০১৮, ১৭:২৭

আটোয়ারী (পঞ্চগড়), ২৭ মে, এবিনিউজ : জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে আটোয়ারী উপজেলার ৫ ক্যাটাগরিতে ৫ জন জয়িতার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।  উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর জয়িতা বাছাই কমিটি এ সকল জয়িতাদের নাম চূড়ান্ত করেন।

জয়িতারা হলেন-১। অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী, রেনু একরাম ২। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী, আরিফা বেগম ৩। সফল জননী নারী হিসাবে মোছাঃ হামিদা ৪। নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী, আদোরী রানী ও ৫। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী, মোছাঃ হাজেরা বানু।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী উপজেলার ছোটদাপ গ্রামের রেনু একরাম তার পিতার মৃত্যুর পর ছোট একটি পাথরের ব্যবসা দেখাশোনা শুরু করেন।  ধীরে ধীরে সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বাড়াতে থাকে।  অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আজ সে একজন প্রতিষ্ঠিত কোটিপতি ব্যবসায়ী।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী বর্ষালুপাড়া গ্রামের আরিফা বেগম, একজন হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে।  বাবা-মায়ের সাহায্য ছাড়াই প্রাইভেট টিউশনি পড়াইয়ে নিজের পড়ালেখা চালিয়ে ২০০৮ সালে এইচ.এস.সি. পাস করেন।  অত:পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হন এবং চাকুরী অবস্থায় অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

সফল জননী নারী সর্দারপাড়া (মাঝগাঁও) হামিদা অল্প বয়সে বিধবা হয়। সে অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে তার ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখান।  বর্তমানে তার এক ছেলে বি.সি.এস এ শিক্ষা ক্যাডারের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে।  নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করেছে যে নারী, রাধানগর গ্রামের আদোরী রানী।

একজন সাধারন কৃষকের মেয়ে। কঠোর পরিশ্রম করে বি.এ পাস করেন। নিতুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ২০০২ সালে যোগদান করে। কিন্তু প্রধান শিক্ষককে টাকা প্রদান করতে না পারায় তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। বিজ্ঞ জজ কোর্ট হতে আদেশ পাওয়ার পরও তাকে পূর্ণ বহালা করা হয় নাই। বর্তমানে সে হস্তশিল্প কারখানা চালু করে সাবলম্বী। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী, সর্দার পাড়া গ্রামের জারাব উদ্দীনের মেয়ে মোছাঃ হাজেরা বানু।

অল্প বয়সেই বিয়ে হয় বার আউলিয়া গ্রামের ওয়াজেদ আলীর সাথে। ১৯৯৮ সালে ব্র্যাকের সহায়তায় বিভিন্ন সংগঠন, সভা, আইন শিক্ষার ক্লাস মাধ্যমে সমাজের নারী পুরুষদের বিভিন্ন ভাবে সচেতন করেছেন।  ২০০৩ সালে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করে ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।

এবিএন/মোঃ হাসিবুর রহমান/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food