দৌলতপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আরও ৩ বছর থাকবেন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:০৭

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান। 

দীর্ঘ ৯ বছর একই স্থানে উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকার সুযোগে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার সড়ক ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়ন। 

প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বরাদ্ধ পাওয়া গেলেও জিল্লুর রহমানের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কাজের মান অত্যান্ত খারাপ হওয়ায় ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড। 

দু-বার এখানে নতুন উপজেলা প্রকৌশলী পোষ্টিং দেয়া হলেও জিল্লুর রহমান দায়িত্ব না দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সে সকল পোষ্টিং অর্ডার স্থগিত করেছে। এ কারণে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিল্লর রহমানের ভুমিকা নিয়ে খোদ প্রকৌশল দপ্তর সমুহে  প্রশ্ন উঠেছে। 

জিল্লুর রহমানের নির্দেশ মত না চলার অভিযোগ তুলে একাধিক কর্মচারীকে অন্যত্র শাস্তিমুলক বদলি করা হয়েছে। অথচ তার কথামত চললে মাসে দু-একদিন অফিস করেও বছরের পর বছর পার করে দেবার মত ঘটনা ঘটেছে। 

গত ২০ ডিসেম্বর ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তার এক সহকর্মীর সাথে বাক বিতন্ডা হবার খবর পাওয়া গেছে। 

প্রাপ্ততথ্যে জানাগেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান ২০১০ সালের ৩ মার্চ দৌলতপুর এলজিইডিতে যোগদান করেন। তখনকার উপজেলা প্রকৌশলী বদলি হওয়ায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

দায়িত্ব নেবার পর থেকেই দুর্নীতি অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কতিপয় ঠিকাদারের সাথে যোগসাজস করে কাজ না করে বিল উত্তোলন, নিম্নমানের কাজ করে ঠিকাদারের সাথে ভাগবাটোয়ারা, সিংহভাগ কাজের প্রাক্কলনের চেয়ে ৭ থেকে ২৫ ভাগ পর্যন্ত বরাদ্ধ বাড়িয়ে এনে ভাগাভাগি করে নেবার অভিযোগ উঠে। 

প্রতিবছর উপজেলার গ্রামীণ সড়ক গুলো মেরামত ও পুনঃ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় হলেও দু-এক মাসের মধ্যেই তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে সিংহভাগ কমিশন নিয়ে গোপন টেন্ডারে ২৮ লক্ষ টাকার কাজ পছন্দের ঠিকাদার কে কাজ দেবার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৩ সালের ২০ জুন এলজিইডি/সিই/্-৩৭/২০০৬/৪৮৮৪ নং স্বারকে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী নিরাপদ পাল কে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে বদলী করা হলে ৩০ জুন তিনি দৌলতপুরে যোগদান করেন। 

কিন্তু উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিল্লর রহমান নতুন প্রকৌশলী কে দায়িত্ব না বুঝিয়ে দিয়ে পরদিন ঢাকা চলে যান। এরপর ঐ বছর ৮ জুলাই এলজিইডি/সিই/্ই-৮৫/২০১০/৫২৩২ নং স্বারকে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী নিরাপদ পালকে প্রেষণে স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে ন্যস্ত হয়। 

সর্বশেষ, গত ৯ জানুয়ারী ২০১৮ ইং তারিখে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত স্বারক নং ৪৬.০২.০০০০.০০ ১.৯৯.১৮৭. ২০১৭-২১৪ আদেশে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম কে দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে বদলী করা হলেও সে আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। 

একাধিক সূত্র জানিয়েছে জিল্লুর রহমান এ আদেশ হাতে পাওয়ার পর ঢাকায় গিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আবারো সেই বদলী আদেশ স্থগিত করেছেন। 

একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান জিল্লুর রহমান পার্শ্ববর্তী ভেড়ামারা উপজেলার ভেড়ামারা পৌরসভার কাচারীপাড়া চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন চার ইউনিটের তিনতলা পর্যন্ত সম্পন্ন বিলাসবহুল অট্রালিকা বানিয়েছেন অথচ ২ বছর আগেও সেখানে তার প্রাচীর ঘেরা টিনশেড বাড়ি ছিল। 

এ দিকে ঘনিষ্ঠ একাধিক সুত্র জানিয়েছে জিল্লুর রহমানের আর ২/৩ বছর চাকুরী আছে। 

এ সময়ট তিনি যে কোন মূল্যে এই স্থানেই থেকে যেতে চান।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিল্লর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোনে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার অফিসে চায়ের আমন্ত্রণ  জানান।  

এবিএন/জহুরূল হক/গালিব/জসিম
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ