ড্রেজিং ও পূন:খননের অভাবে তিস্তা নদী এখন ধু-ধু বালুচর

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৬ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫১

উত্তরাঞ্চলে প্রবাহিত নীলফামারীর তিস্তা নদী এখনও কোন রকম অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে ও পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ধু- ধু বালুচরে পরিনত হয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

প্রকৃতির এ নদীীর অফুরন্ত রির্জাব পানিতে নানান ফসলে ভরে উঠেছিল মাইলের পর মাইল। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। একসময় ছোট বড় নানা প্রজাতির মাছেরও অফুরন্ত উৎস ছিল এ নদীতে। সময় গড়িয়ে চলার সাথে সাথে সেই ভরা যৌবনা নদীটি এখন ধু- ধু বালুচরে পরিনত হয়েছে।

নীলফামারীর জলঢাকার উপজেলার তিস্তা নদীটি দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেজিং ও পুনঃ খনন না করায় অকার্যকর হয়ে ধু-ধু বালু চরে পরিণত হয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সুত্র জানায়, তিস্তা নদীর উৎপত্তি  হচ্ছে ভারতের পার্বত্য এলাকার সিকিমের সালাম হ্রদ থেকে।

 এ নদীটি ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ খরস্রোতা তিস্তা ভারতের চিকিম এবং পশ্চিম বঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুরি, কুচবিহার জেলা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নীলফামারীর ডিমলা  উপজেলার  পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগ্ঞ্জ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট হয়ে তিস্তা নদী জলঢাকা উপজেলার বুড়ি তিস্তা দিয়ে ১৫৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী এলাকা দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রম্মপুত্র নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।

 এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা হাটবাজার গুলো এখন হয়েছে বিরান অঞ্চল, কৃষি জমিগুলো পরিণত হয়েছে ধু-ধু বালুচরে ও মরু ভুমিতে,জেলে পাড়াগুলো হয়ে গেছে বিলীন।

খেঁাঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পানি আগ্রাসন,ড্রেজিং,সংস্কারের অভাবে নীলফামারীর অন্যতম প্রধান তিস্তা নদীর অস্তিত্ব এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে ও মানচিত্র থেকে হারিয়ে  যেতে বসেছে।

 স্থবির হয়ে পরেছে লাখ লাখ মানুষের নদী কেন্দ্রীক জীবন জীবিকা।এ সম্ভাবনা এক দিনে থেমে যায়নি। তিস্তা সহ সম্ভাবনাময় নদীগুলো আস্তে আস্তে অস্তিত্ব সংকটে পড়লেও এ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি। সংস্কার ও ড্রেজিং এর  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলে অন্তত অস্তিত্ব সংকটে পড়ত না এক সময়ের খরস্রোতা উত্তাল এ তিস্তা নদী।

বুধবার উপজেলার তিস্তা নদী এলাকা  ঘুরে দেখা গেছে,  তিস্তা নদীতে ড্রেজিং ও পুন্নঃ খনন  না করার ফলে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে জমিগুলো এখন পতিত হয়ে মরু ভুমিতে পরিনত হয়েছে”।
অন্যদিকে এ নদীতে জমি হারানো ব্যাক্তিরা স্বাভলম্বি হওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে বালু চরে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে সবুজের সমারোহে পরিনত করছে। যা এক মনোরম দৃেশ্যর সৃষ্টি হয়।

 শৈলমারী এলাকার কৃষক হোলারু বলেন, নদীর পলি অপসারণ না করা ও রিজার্ভারে পানি না থাকায় নদী এলাকাটি বর্তমানে প্রায় ধু-ধু বালুচর সৃষ্টি হয়েছে।সরকারের নিরবতা আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতার কারনেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ওই এলাকার শামিম বলেন,নদীতে পানি ছিল তখন প্রচুর মাছও ছিল আর সেই মাছ আমরা আমাদের চাহিদা পুরন করে বাজারে বিক্রি করতাম।আর এখন পানিও নাই মাছও নাই এবং আমরা অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছি।

ডাউয়াবাড়ী এলাকার সুমন বলেন, এই নদী আমাদের অনেক জমি গ্রাস করেছে। এখন পানি না থাকায় এখানে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে স্বাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা করছি। ফরিদুল বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে নদীটি ড্রেসিং না করার ফলে ভরাট হয়ে গেছে বাধ পর্যন্ত এবং আগামী বর্ষা মৌসুমে এলাকা প্ললাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাই  জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন ড্রেসিং।


এবিএন/হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ