শিবগঞ্জে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:২৭

নকল সোনার পুতুল ব্যবসায়ী আটকের পর তাকে মারধর করে  ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী হিসেবে সাজিয়ে থানায় পাঠানো ও প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

বগুড়ার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম আকতারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন অপর পুলিশ সদস্যরা। 

এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সানোয়ার সোমবার(০৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যার পর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সোমবার (৭  জানুয়ারী) দুপুর ২ টায় বগুড়া- রংপুর মহাসড়কে চকিরহাট নামক স্হানে চেকপোস্ট বসিয়ে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শামীম আকতার তিনজনকে আটক করে। 

এর মধ্যে একজনকে নকল সোনার পুতুল, একজন ৪০ বোতল ফেন্সিডিল ও আরেকজনকে গাঁজাসহ আটক করে  তদন্ত কেন্দ্রের হাজতে রাখে। 

বিকেলে এসআই শামীম আকতার ফেন্সিডিলসহ আটক ব্যক্তিকে হাজত থেকে বের করে পুরাতন তদন্ত কেন্দ্রের পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে সেখানে দেন-দরবার করে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে  ফেন্সিডিলসহ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে, নকল সোনার পুতুলসহ আটক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার খোকসা কালুগাড়ী গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে মনু মিয়াকে (২৮) ৪০ বোতল  ফেন্সিডিল দিয়ে চালানের জন্য শিবগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে দেয়। 

এ সময় ফেন্সিডিল বহনের দায় স্বীকার করতে মনু মিয়াকে মারধর করে করা হয় বলে দাবী করেন তার প্রতিবেশী মাসুদ।


এ দিকে, তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ঘটনা জানাজানি হলে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের নির্দেশে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সানোয়ার হোসেন মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে  গিয়ে ঘটনার সময় কর্তব্যরত সেন্ট্রিসহ সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 


গ্রেপ্তারকৃত মনু মিয়ার বাবা আজিজার রহমান অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে নকল পুতুলসহ ধরা হয়েছিল বলে শুনেছি। গত রাতে আমার কাছে ছেলেকে ছাড়ার জন্য এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এ টাকা দিতে না পারায় আমার ছেলেকে ফেন্সিডিল দিয়ে চালান দেয়া হচ্ছে।


শিবগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সানোয়ার হোসেন বলেন, সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করার রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। ছেড়ে দেয়া মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি পাবনা এলাকার বলেও জানান তিনি। ওসি স্যারকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে মোকাতলা তদন্ত কেন্দ্রের (এসআই) শামিম আকতার বলেছেন গ্রেফতারকৃত মনুর কোমড়ে নকল সোনার পুতুল এবং ব্যাগে ৪০ বোতল ফেন্সিডিল পাওয়া গেছে। তাহলে পুতুল দিয়ে মামলা দেয়া হলো না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।


শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনা আমার কাছে এসেছে। ইন্সপেক্টর সানোয়ার হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এ দিকে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার যখন মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে মাদক নির্মূলে নিরলস কাজ করছে তখন একজন এসআইয়ের এমন কর্মকান্ডে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

এবিএন/খালিদ হাসান/গালিব/জসিম
 

এই বিভাগের আরো সংবাদ