ফুলবাড়ীয়ায় অপহরণের পর স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০১৮, ১৪:১৬

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ), ২৪ মে, এবিনিউজ : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় অপহরণের ২ মাস ১৭ দিন পর গতকাল বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলামের উপস্থিতিতে অপহৃত মেধাবী স্কুল ছাত্র মেহেদী হাসান বাবুর গলিত লাশ মাটির নীচ থেকে উত্তোলন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

এ ঘটনায় পলাশীহাটা গ্রামের মৃত আঃ গফুরের পুত্র তুষার ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র আল-আমিন নামের দুইবন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৬ মার্চ এসএসসি পরীক্ষার দুইদিন পর বন্ধু তুষার মেহেদীকে মোবাইল ফোনে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে ৬ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে।

ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে এস.আই পরিমল চন্দ্র দাস তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামীদেরকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে তুষারের বড় ভাই উজ্জলের কেশেরগঞ্জ বাজারস্থ মাছের আড়ৎ এর পিছনের আধাপাকা ঘরেরর মেঝের মাটির নীচ থেকে মেহেদীর পুতে রাখা লাশ উত্তোলন করেন।

লাশ উত্তোলন কালে পুলিশ সুপার ছাড়াও অতিরিক্তি পুলিশ সুপার অপরাধ এস এ নেওয়াজি, আল- আমিন ও ডিবি ওসি আশিকুর রহমান, ফুলাবড়ীয়া থানার ওসি শেখ কবিরুল ইসলাম, ওসি ( তদন্ত) আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন। নিহত মেহেদী হাসান ২০১৮সালের এসএসসি পরীক্ষায় স্থানীয় পলাশীহাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৬ মার্চ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাবু রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। এরপর আমাদের কাছে তথ্য আসে, তুষার ও আল আমিন পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে তুষারের বড় ভাইয়ের গদি ঘরের পেছনের ঘরে পুঁতে রেখেছে। অথচ হত্যাকান্ডের পর তুষার পুলিশকে ব্যাপকভাবে মিস গাইড করে। এসময় সে নিজেকে আড়াল করতে কিছু কৌশলও গ্রহণ করে। এর মধ্যে মেহেদীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অন্য একটি সিম ঢুকিয়ে ভয়েস নকল করে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির নাটক সাজায়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মিস গাইড করে ঢাকা, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত নিয়ে যায়। সর্বশেষ আমাদের কাছে তথ্য আসে তুষারই হত্যাকারী। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ কথা স্বীকার করে এবং আলামিন নামে আরেকজন হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দেয়। পরবর্তীতে আল আমিনকে গ্রেফতারের পর সেও স্বীকার করে। পরে তাদের দেখানো জায়গার মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এবিএন/হাফিজুল ইসলাম স্বপন/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ