সিলেট আধুনিক কারাগারের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:১৪

ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের সাত বছর পর নবনির্মিত সিলেট আধনিক কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত আধুনিক এই কারাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সিলেট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, ৩০ একর জায়গার উপর নির্মিত এই কারাগারটিতে রয়েছে দুই হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতা। কারাগারের ভেতরে-বাইরে রয়েছে সর্বমোট ৬০টি স্থাপনা।

এছাড়া আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত কারাগারে ২৫ শয্যার স্বতন্ত্র টিবি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে মেডিকেল স্টোর, ক্লথিং স্টোর, লিলেন স্টোর, স্টেরিলাইজেশন রুম, ল্যাবরেটরি, এক্স-রে রুম, রান্নাঘর, ২০ জন বন্দির অপেক্ষাকৃত মাইনর অপারেশন থিয়েটার, অবজারবেশন ওয়ার্ড, ১০০ শয্যার পুরুষ বন্দি হাসপাতাল এবং মহিলা ওয়ার্ডে ২০ শয্যার পৃথক আরো একটি মহিলা হাসপাতাল।

কারাগারে পুরুষ বন্দিদের ৪টি ভবনই ৬ তলাবিশিষ্ট আর নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ভবনের মধ্যে একটি ৪ তলা এবং দুটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। রান্নার কাজের জন্য রয়েছে ৫টি ভবন, যার সবগুলোই ১ তলা। খাবার মজুত রাখার জন্য রয়েছে ৪টি ভবন, রয়েছে দোতলা একটি রেস্ট হাউস। ৪ তলাবিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার, মসজিদ, স্কুল ও লাইব্রেরি। এছাড়াও কারাগারে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং কর্মকর্তাদের জন্য একশ ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল জানান, নতুন কারাগার উদ্বোধন করা হলেও পুরনোটি এখনও বহাল থাকবে। ডিসেম্বর নাগাদ নতুন কারাগারে কিছু বন্দিদের স্থানান্তর করা হবে। তবে নতুন কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের স্থানান্তর করা হবে।

এসময় সিলেট জেলা সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট ৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েছ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ,

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুনেছা হক, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন একেএম ফজুলল হক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সিলেটের নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছিল। প্রথমে ১৯৭ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হলেও কাজ শেষ করতে ব্যয় দাঁড়ায় ২২৭ কোটি টাকায়। যার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। এরপর তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও চলতিমাস পর্যন্ত ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা শেষ হতে এখনো মাসখানেক লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
 

এবিএন/মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ