কুমিল্লা-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলী আহম্মেদ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:৩৭

১৯৭১ সাল, তখন মাত্র সতেরো বছরের টগবগে এক সুদর্শন তরুণ তিনি। গৌরীপুর এফ এম কলেজে তৎকালীন সময়ে মাত্র উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হিসেবে অধ্যয়নরত প্রচন্ড মেধাবী এবং বিনয়ী হওয়ার সুবাধে তৎকালীন সময়েই ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন, বলছি যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক আমলা এডভোকেট আলী আহমেদের কথা,

 এডভোকেট আলী আহমেদ কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার প্রত্যন্ত এক গ্রাম নিলখী গ্রামে এক মধ্যে বিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন, সাবেক এই আমলা জানান,আশির দশকেও আমার এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতার কারণে শিক্ষার হার ছিল নিতান্তই কম প্রায় ছয় মাইল হেটে গিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে হতো আশেপাশে তেমন কোনো বিদ্যালয়ও ছিলোনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা সেই সাথে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগকে সঙ্গী করে দীর্গ দীর্ঘ ছয় মাইল পায়ে হেটে বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশুনা করার বিষয়টা ছোটবেলায় বেশ নাড়া দিয়েছিলো তাকে সেই ভাবনা থেকে হোমনা-তিতাস অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে এডভোকেট আলী আহমেদের অবদান নি:সন্দেহে প্রশংসনীয় তিনি সচিব থাকাকালীন সময়েই নিজ পিতার জমিতে নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন নিলখী উচ্চ বিদ্যালয় ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি ফলাফলের দিক থেকেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন!আর এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অত্র অঞ্চলের প্রথম প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

 এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি, শুধু স্কুল নয় হোমনা-তিতাস উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মসজিদ-মন্দির নির্মাণ সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে তার অংশ গ্রহণ ও সহযোগিতা চোখে পড়ার মতো!সততা আর নিষ্ঠার কারণে কারি কারি টাকা তিনি জমাতে পারেননি,কিন্তু সততা আর আদর্শকে লালন করে সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে পেরেছেন সেই সাথে এলাকার মানুষকে সহযোগিতার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়মূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকতে পারছেন আর এতেই বেশ তৃপ্ত বলে জানান।

 তিনি ব্যাক্তিগত জীবনে দুই ছেলে আর দুই মেয়ের গর্বিত পিতা তিনি!দুই ছেলেই ব্যাংকার আর এক মেয়ে স্বামীর সাথে কানাডায় বসবাস করছেন!সবার ছোট মেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ডাক্তার স্বামীর সাথে এই মুহূর্তে আমেরিকায় আছেন, তরুণ বয়স থেকেই লক্ষ স্থির করে মনে অনেক স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল তার, আর সেই লক্ষে সফলও হয়েছেন তিনি।

যুদ্ধে যাবো আমি।পাকসেনাদের হাত থেকে জীবন দিয়ে হলেও নিজ জন্মভূমিকে মুক্ত করবো।যুদ্ধে গেলেন। পাকসেনাদের পরাজিত করে ছিনিয়ে আনলেন বাংলার লাল-সবুজের স্বাধীন পতাকা।

অতঃপর আমরা পেলাম একটি স্বাধীন দেশ একটি স্বাধীন মানচিত্র!আমরা পেলাম একটি স্বাধীন ভূখণ্ড যার নাম বাংলাদেশ! দেশ স্বাধীনের পর তিনি আবারো মনোযোগ দিলেন পড়াশুনায়। পড়াশুনা শেষ করে জীবন-জীবিকার তাগিদে চাকরির পেছনে ছুটলেন!বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় এক পর্যায়ে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে এই জোট সরকারের রোষানলে পরে মিথ্যে মামলায় চাকরি হারান তিনি!দীর্ঘ পাঁচটি বছর চাকরি হারিয়ে উকালতি করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে জীবন কাটিয়েছেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আলী আহমেদের ।

শেষমেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে মহামান্য আদালতে কেইস জিতে পুনরায় চাকরি ফিরে পান তিনি! সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে সফলতার সাথে কাজ করে অবসরে যান তিনি!এখন বাকিটা জীবন উন্নয়ন বঞ্চিত হোমনা-তিতাস এলাকার জনগণের সেবায় জনপ্রতিনিধি হয়ে নিজেকে সপে দেওয়ার মনস্থির করেছেন তিনি। কুমিল্লা-২ হোমনা-তিতাস আসন থেকে এবার আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক আমলা যুদ্ধাহত এই বীর মুক্তিযুদ্ধা!তিনি জানান,যদি দলীয় প্রধান আওয়ামীলীগ থেকে তাকে মনোনীত করেন তবে একসময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত এই আসনটি আওয়ামীলীগের ঘাঁটিতে পরিণত করবেন তিনি!কুমিল্লা-২ হোমনা-তিতাস আসনটিকে আওয়ামীলীগের ঘাঁটিতে পরিণত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান শেখ মুজিবের আদর্শ লালনকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যোদ্ধাহত এই বীর মুক্তিযুদ্ধা
এলাকার উন্নয়নে চাকরিকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি।এলাকার অসহায় মানুষের সুখে যেমন তিনি আনন্দিত হন তেমনিভাবে তাদের দুঃখেও সমান ভাবেই ব্যাথিত হন তিনি।

শুধুমাত্র দেশ প্রেম আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ লালনকারী এবং বঙ্গবন্ধুর গড়ে তুলা রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারনে বিএনপি-জামাত সরকারের ক্ষমতার সময় তাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে মিথ্যে মামলায় চাকুরী হারিয়ে পাঁচটি বছর পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিনানীপাত করেছি আমি!শত কষ্টের মাঝেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি-জামাতের কাছে মাথা নত করেননি যোদ্ধাহত এই বীর মুক্তিযুদ্ধা।

বিএনপি-জামাত সরকারের সময় মিথ্যে মামলায় নিজে চাকরি হারিয়েছেন,পাশাপাশি চোখের সামনে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উপর একের পর এক মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে অপদস্থ করতে দেখে তা সহ্য করতে পারেননি তিনি!তারই ধারাবাহিকতায় নিজ উদ্যোগে শুধু মাত্র রাজনৈতিক মিথ্যে মামলার শিকার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য ঢাকায় ইন্সানিয়াত নামে একটি আইন সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন!আর এই আইন সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মীকে তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের হয়রানিমূলক মিথ্যে মামলার শিকার আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের বিনা ফিতে আইনি সহায়তা দিয়েছেন তিনি।

জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ক্ষমতায় আনার জন্য কাজ করতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপি কর্তৃক একের পর এক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তিনি!প্রাণপ্রিয় দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পরই মহামান্য আদালতের রায়ে ফের পুনরায় ফিরে পান হারানো চাকরি। সম্মান আর দক্ষতা দিয়ে চাকুরী জীবনে দেশ এবং নিজ এলাকার জন্য অনেক কিছুই করেছেন তিনি।শিক্ষা বিস্তারে এডভোকেট আলী আহমেদের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

 একান্ত আলাপে এ প্রতিবেদককে এডভোকেট আলী আহমেদ জানান,যখন দেখি আমার প্রাণের দল,মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল আওয়ামীলীগের কোন নেতা-কর্মী জামায়াত-বিএনপির মতো চিহ্নিত রাষ্ট্রদ্রোহীদের সাথে স্বার্থের জন্য হাত মেলান,তখন একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে তা সহ্য করতে পারিনা!হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়!যারা এই বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চায়নি,যারা এ স্বাধীন দেশের মানচিত্র মেনে নিতে পারেনি সেই রাজাকার আলবদরদের সাথে জোট করে তাদেরকে মন্ত্রীর আসনে বসিয়ে তাদের গাড়িতেই ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের পবিত্র জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন বিএনপি সরকার!আমরা কি এজন্যই জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম?
শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী,আজ উন্নত বিশ্বেও বাংলাদেশ একটি রোল মডেল!যুদ্ধাহত এ মুক্তিযুদ্ধা বলেন আজ বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দেখে গর্ব হয়,মনে হয় যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন বাজি রেখে দেশকে পাকহানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে মুক্তি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম তা আজ স্বার্থক হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধারাবাহিকভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন, এই দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

 শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে আগামীতে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত দেশ হিসেবে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো বলেও আমার বিশ্বাস!


এবিএন/হৃদয় দেবনাথ/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ