২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ধুনটের শেখ আব্দুস ছালামের মৃত্যুদন্ড

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৮, ২২:২৩

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের প্রতিষ্ঠাতা ধুনটের মাওলানা শেখ আব্দুস সালামকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দিয়েছেন আদালত।

২০০৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম বর্বরোচিত ওই মামলায় গ্রেফতার আছে। ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে জবানবন্দি দেয় সে। আব্দুস সালাম ধুনট উপজেলার পেঁচিবাড়ী গ্রামের মৃত মোজাহার আলী শেখের ছেলে। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে আব্দুস সালামই ছোট। তিনি শৈশবের ছাত্র জীবন কাটিয়েছেন শেরপুর উপজেলায়। শেরপুরের হামছায়াপুর গ্রামের নিজস্ব বাড়ীতে শেখ আব্দুস সালামের স্ত্রী আলেয়া বেগম তার এক ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছে।

আব্দুস সালাম ১৯৮৪ সালে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়াশুনা করার সময় পাকিস্তান যায় সে।  ১৯৮৪ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতেই সেখানে যায় মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম। পরপর তিনবার আফগানিস্থানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যান তিনি। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে ফেরেন। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ শাখার প্রতিষ্ঠা করে কার্যক্রম শুরু করেন।

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের কিছু সময় তৎকালীন সরকারের সহযোগিতায় নির্বিেঘ্নে সংগঠন পরিচালনা করেন।  পরে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে যাতায়াতের সময় কখনও পাকিস্তানি পাসপোর্ট, আবার কখনও বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করতো মাওলানা সালাম।

১৯৯৭ সালে শেখ আব্দুস সালাম তার স্ত্রী সন্তান সহ বাংলাদেশি পাসপোর্টে পাকিস্তানে যায়। ২০০২ সালে আব্দুস সালাম পাকিস্তানি পাসপোর্টে গফুর পরিচয়ে ফের দেশে ফেরেন। এরপর তিনি বগুড়ার শেরপুরে একটি বালিকা মাদ্রাসা স্থাপন করে শিক্ষকতা শুরু করেন। এ সময় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। তিনি আব্দুস সালামকে ঢাকায় যেতে বলেন।

২০০৪ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় এসে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তৎকালীন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও জঙ্গি সংগঠনের নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ ও ভারতে কর্মকাণ্ড চালানো অসুবিধা হয়। কাজেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হবে। আর এটা সম্ভব হলে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

বাংলাদেশ ও ভারতে হিজবুল মুজাহিদিন ও অন্যান্য সংগঠনের সুবিধা হবে তাতে। অতএব, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মুজাহিদদের হাতে অস্ত্র, গোলাবারুদ তুলে দিতে হলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়িই তারা গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়ন করে। আজ বুধবার বিকেলে মাওলানা শেখ আব্দুস সালামের গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, পৈত্রিক ভিটেমাটির ওপর তার একটি টিনের ঘর জরাজীর্ণ অবস্থাতে পড়ে রয়েছে।

আব্দুস সালামের ভাই মৃত গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, আব্দুস সালাম মাদ্রাসায় পড়ালেখা করার সুবাদে ছোট বেলা থেকেই বাহিরে থাকতেন। তিনি দেশের বাহিরেও যুদ্ধে গিয়েছেন বলে শুনেছেন। তাই গ্রামের বাড়ীতে খুব কম আসতেন। তাই তার বিষয়ে খুব একটা জানেন না তিনি।  এছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তার মৃত্যুদন্ডের আদেশের খবরও তার পরিবারের কেউ শোনেননি।

এবিএন/ইমরান হোসেন ইমন/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ