চট্টগ্রামে কথিত জ্বিন চক্রের তিন সহযোগী গ্রেফতার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২০

সৌদি কপিল প্রতারক আদনান সাঈদকে হাতের মুঠোয় আনতে জ্বিনের বাদশা’ আবদুল মান্নানের মন্ত্রে কাবু হয়েছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. আবুল হাছান শহীদ।

আর কথিত জ্বিনের বাদশা কর্তৃক নতুন করে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি শহীদ যখন উপলদ্ধি করছেন ততদিনে নিজের জমানো শেষ অর্থটুকুও হাতিয়ে নিয়েছেন জ্বিন চক্র।

তবে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে ঘটনাটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পর কথিত ওই জ্বিনের বাদশা আবদুল মান্নান ও তার আরো দুই সহযোগীসহ এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর হাজারী গলি থেকে একজন এবং টেকনাফ থানার হোয়াক্যাং এলাকা থেকে এ চক্রের আরো দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অপর দুজন হলেন, মো. জোবাইর হোসাইন রিজভী (২৩) ও আবু তৈয়ব (৫৮)।

জানা যায়, আবাসিক হোটেল ব্যবসা করার সময় সৌদি নাগরিক আদনান সাঈদ আল সাদীর প্রতারণার শিকার হয় মো. আবুল হাছান। এর পর ভেঙ্গে পড়েন তিনি। একসময় দেশে ফেরত আসেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর দেশে ফিরে মানসিক দুরঅবস্থার সুযোগ নিয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিশেহারা শহীদের সঙ্গে ‘জ্বিনের বাদশা’র যোগাযোগ ঘটিয়ে দেন নগরীর হাজারী গলির এক সোনার দোকানের কর্মচারী জোবায়ের হোসেন রিজভী।

ধীরে ধীরে জিন চক্রের তন্ত্রে-মন্ত্রে কাবু হয়ে প্রতারণার খপ্পরে জড়িয়ে পড়েন হাছান শহীদ। জ্বিন চক্র ভুক্তভোগীকে জানান, ধর্মীয় আধ্যাত্বিক শক্তি এবং জীনের মাধ্যমে সৌদি নাগরিক আদনান সাঈদ আল সাদী (৪২) কে বাংলাদেশে এনে দিতে পারবে এবং বাংলাদেশে এসে তার সম্পূর্ণ টাকা ফেরৎ দিয়ে যাবে সে।

তবে সৌদি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত আনতে হলে শুরুতে ২ লাখ এবং ৩ ভরি স্বর্ণ ও আমেরিকান এক হাজার টাকার ডলার জ্বিনের বাদশা’কে দিতে হবে।

মৌখিক চুক্তিও হয় শহীদের। এই চুক্তি অনুসারে ‘জ্বিনের বাদশা’ মান্নানকে দুই লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া হয় মোট ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

টাকা নেওয়ার সময় শহীদকে বলা হয়েছে কথাগুলো কারো কাছে শেয়ার করলে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হবে এবং তার পালিত জিন তাকে গলা চিপে হত্যা করবে বলে। এমনকি তার সন্তানদের উপর বড় ধরনের বিপদ আসবে বলে জানানা জিন চক্র।

কিন্তু এর দীর্ঘদিন পরও কাজ না হওয়ায় শহীদ যোগাযোগ করেন ‘জ্বিনের বাদশা’ মান্নান ও তার সহযোগীদের সঙ্গে। এ সময় তারা বারবার শুধু ধৈর্য ধরে বলেন।

একসময় বিরক্ত হয়ে টাকা ফেরত চাইলে কথিত জ্বিন চক্র তাকে হত্যার হুমকি ও মৃত্যুর ভয় দেখাতে থাকে। পরে এ বিষয়ে শহীদ থানায় মামলা করেন।

অভিযোগ পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘জ্বিনের বাদশা’ আবদুল মান্নান (৫৮) ছাড়াও তার দুই সহযোগী জোবাইর হোসাইন রিজভী (২৩) ও আবু তৈয়বকে (৫৮) গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন এক প্রবাসী।

অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে কথিত ওই জ্বিনের বাদশা ও প্রতারক জ্বিন চক্রের আরো দুই সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। বুধবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই চক্রে আরও কে কে জড়িত তা নিশ্চিত করা গেলে তাদেরকেও গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরে গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালাতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি নেজাম।

এবিএন/রাজীব সেন প্রিন্স/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm