আজকের শিরোনাম :

তজুমদ্দিনে অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:০২

ভোলার তজুমদ্দিনে ঘটনার সাতদিন পরে তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি চপল রায় এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছে মন্টুলাল বিশ্বাস।

প্রহসনমূলক বিবৃতিতে মন্টুলাল বিশ্বাস ভক্তদের সাথে কুরুচিপূর্ণ আচরণের কথা বলেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সাংবাদিকদের কাছে থাকা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, চপল রায় প্রার্থনা শেষে তার বাবার সাথে চেয়ারে বসা অবস্থায় কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে পাশে বসা মণ্টু বিশ্বাস উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় রীতিনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গলি প্রদর্শন পূর্বক  চপল রায়কে মানহানিকর, অশালীন ভাষা প্রয়োগে গালিগালাজ করেন এবং চেয়ার থেকে উঠে উগ্রভাবে মন্দির থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিতে থাকেন।

মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় চপল রায় এ অশালীন ভাষা প্রয়োগের প্রতিবাদ করায় উত্তেজিত হয়ে তেড়ে এসে সাংবাদিকের  মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় পাশের চেয়ারে বসা মন্দির কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়লাল দাস সবাইকে শান্ত করলেও মন্টুলাল বিশ্বাস চেয়ার ছেড়ে একাধিকবার উত্তেজিত ভাষায় গালি ও হুমকি দিতে থাকেন।

তিনি চপল রায় এর বাবা বিধূভূষন রায়কে ছেলে চপল রায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে প্ররোচিত করে বলেন, "আপনি মামলা দেন আমি সাক্ষী দেব।

মণ্টু বিশ্বাসের হঠকারিতার সাথে ওই সময় উপস্থিত রাসু দাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রিয়লাল দাসসহ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু বিমল বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু বিরণ চন্দ্র নন্দী, উক্ত প্রিয়নাথ গোস্বামী জিউ মন্দিরের শিষ্য কমিটির জেলা সভাপতি মনা কর্মকার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ দ্বিমত পোষণ করেন।

উক্ত প্রিয়নাথ গোস্বামী জিউ মন্দিরের জেলা কমিটির সভাপতি মনা কর্মকার জানান ভুল বোঝাবুঝির অবসানে আগামী রবিবার আমিসহ জেলা নেতৃবৃন্দ তজুমদ্দিন এসে সমাধান করে দিব।
মনা কর্মকারসহ অন্য নেতৃবৃন্দকে অপমান করে, চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ্ কিরন সহ ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দারকে অমান্য করে ও তাদের কথা উপেক্ষা করে  ঘটনার সময় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত সুনিল দাস, যুব কমিটির রুবেল চক্রবর্তী, অয়ন দাস, সুবোধ দেবনাথ ও সুমন দাসকে নিয়ে বাবু বিধূভূষন রায় ও তার পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা বিবৃতি দেয়।

উক্ত মন্দিরের উপদেষ্টা বাবু বিধূভূষন রায় জানান, মন্টু বিশ্বাস আমার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সন্মেলনে যে বিবৃতি দিয়েছে তার বেশিরভাগই মিথ্যা। আমাকে ও আমার ছেলে চপল রায় কে হেয় প্রতিপন্ন করতেই মন্দির কমিটির জেলা সভাপতি সহ সকলের আহবান উপেক্ষা করে সে মিথ্যা গল্প সৃষ্টি করেছে।   এক পরিবারের চার জনের মধ্যে  দুজন সভাপতি, একজন ক্যাশিয়ার ও একজন গীতা স্কুলের শিক্ষক যা পরিবারতন্ত্রকেই উৎসাহিত করে যা শোভন নয়।  

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা জেলায় প্রিয়নাথ গোসাই জিউর মন্দিরই একমাত্র মন্দির যেখানে একই পরিবারের তিনজন তথা মন্টু লাল বিশ্বাস নিজে সভাপতি, তার এক ছেলে ক্যাশিয়ার, ছেলের বউ গীতা স্কুলের শিক্ষক। এদিকে এ মন্দিরের গীতা স্কুলের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে থাকার বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। মন্দিরের চারপাশে অনেক স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার যুবক থাকতেও কিভাবে মণ্টু বিশ্বাসের পুত্রবধূ যে শুধু এসএসসি পাশ সে নিয়োগ পায় এই প্রশ্নের উত্তরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে চলে তথ্য সংগ্রহ।

সূত্র জানায় , মন্দির ভিত্তিক গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে মন্টুলাল নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞাপন আড়াল করে তার ছেলের বউ, নাতি ও একজন সহ মাত্র তিনজনকে দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে এসএসসি পাশ পুত্রবধূকে অপকৌশলে নিয়োগ পাওয়ান।  মন্দিরকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই চার বছরের মধ্যে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় এক সময়ের দই কারবারি ও জেলে মণ্টু লাল।  

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মন্দিরকে ইস্যু করে বলইয়া বাড়ির বাবলু বিশ্বাস, পরীক্ষিত সহ  অনেককে জমিতে প্রবেশে বাঁধা, গাছের আগা ভেঙে দেয়া, মন্দিরের টিউবওয়েল থেকে পানি নিতে বাঁধা দেয়ার কারণে একাধিক বার মারামারি ও ঝগড়াঝাটি করার নজির আছে তার। মূলত শাক দিয়ে মাছ ঢাকতেই তজুমদ্দিনের শিক্ষিত ও মেধাবী মুখ সাংবাদিক চপল রায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে সংবাদ সন্মেলন ও অভিযোগ করেন তিনি। এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সকল সাংবাদিক বৃন্দ।

এদিকে তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল রানা জানান, তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করায় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গনমুখী ও প্রগতিশীল  সাংবাদিকতা ধ্বংস করতেই বিএনপি জামাত পন্থী সাংবাদিকদের গোপন চক্রান্ত বাস্তবায়নে এ অভিযোগ ও সংবাদ সন্মেলন করে তারা।

এবিএন/চপল রায়/গালিব/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ