চট্টগ্রামে ফিরিয়ে দিতে হবে স্থানান্তরিত প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়: উপাচার্য

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৪

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, প্রাচ্যের রানী খ্যাত নদী-পাহাড়-সমুদ্রবেষ্টিত প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর চট্টগ্রাম। পর্যটন ও শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের সবার কাছেই অসাধারণ আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অদ্বিতীয় স্থান বাণিজ্যিক রাজধানী এই চট্টগ্রাম।

 দেশের অর্থনৈতিক স্বর্ণদ্বার চট্টগ্রামকে বলা হয় বাংলাদেশের হৃৎপিন্ড। দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কার্যকর বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে কিছু ব্যাংকের হেড অফিস, রেল মন্ত্রনালয়ের প্রধান কার্যালয়, নৌ-পরিবহন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শাখা চট্টগ্রামে স্থাপন করতে হবে। চট্টগ্রামেফিরিয়ে দিতে হবে স্থানান্তরিত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়সহ বহুজাতিক কোম্পানীর সদর দপ্তর।

গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর প্রবত্তক মোড়ে প্রিমিয়ার বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অফিস কক্ষে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ (বারাবাপ)’র নের্তৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময়ে মাননীয় উপাচার্য এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বারাবাপ’র সভাপতি এস. এম সিরাজুদ্দৌলা, সহ-সভাপতি কাজী গোলাপ রহমান ওজিয়াউদ্দিন খালেদ চৌধুরী,পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ ফরিদ,মহাসচিব সালেহ আহমেদ সুলেমান, যুগ্ন-মহাসচিব সাংবাদিক ভূপেন দাশ, সাংগঠনিক সচিব সরফুদ্দিন আহদেম রাজু, সহ-সাংগঠনিক সচিবমিতুল দাশগুপ্ত প্রমুখ।

উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রামে কর্মরত থাকলেও আমলারা সবাই ঢাকায় অবস্থান করে কিংবা সপ্তাহের বেশীরভাগ সময় রাজধানীতে থাকার জন্য তাদের এই অপচেষ্টা। ফলে প্রতিনিয়ত ঢাকায় কাজের চাপ বাড়ছে এবং বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে রাজধানী। তাই ঢাকাকে চাপমুক্ত রেখে কিছু কর্মকান্ড বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি সাপেক্ষে চট্টগ্রামে পরিচালনার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানির ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয়। বিশেষ করে কনটেইনার ভিত্তিক আমদানি-রপ্তানিরতো পুরোটাই এখন চট্টগ্রাম নির্ভর। চট্টগ্রাম দেশের আদি শিল্পনগরী হিসেবে গার্মেণ্টস শিল্পের যাত্রাও শুরু হয় চট্টগ্রামে। সার্বিকভাবে দেশের শিল্পখাতের ৪০ শতাংশ এবং রাজস্ব আয়ের ৫০ শতাংশ চট্টগ্রাম নির্ভর। তাই বৃটিশ আমলে কোলকাতা থেকে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড মুম্বেতে স্থানান্তর করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের কোন বিকল্প নেই। একই কারণে পাকিস্তান আমলে ভারতের মুম্বে, পাকিস্তানের করাচী, শ্রীলঙ্কার কলম্বোর ন্যায় চট্টগ্রাম পূর্ব পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তকোন্দল ও অপরাজনীতির কারণে সমস্ত সদরদপ্তর ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়েছে।

তাছাড়া সোনাদিয়া-মাতারবাড়ীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনসহ কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিতব্য টানেল ও নদীর ওপারে প্রস্তাবিত ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হোক। দোহাজারী, কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন হচ্ছে।মিরসরাই থেকে পতেঙ্গা হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বেড়ি বাঁধসহ চারলেন বিশিষ্ট মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ ও সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হোক। মিরসরাইয়ে গৃহীত দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ প্রস্তাবিত অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে চট্টগ্রাম অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। অচিরেই এই চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

 

এবিএন/রাজীব সেন প্রিন্স/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ