গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ায়

আগৈলঝাড়ায় প্রায় ১১কোটি টাকার সম্পত্তি সরকারের নিকট হস্তান্তর

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:১৪ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:২৩

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশবের বিদ্যাপীঠ বরিশালের আগৈলঝাড়ার ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের লক্ষ্যে প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি সরকারের নিকট হস্তান্তর করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে সরকার থেকে উপজেলা পর্যায়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ‘মডেল বিদ্যালয়’ রূপান্তরিত করতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র সর্বোচ্চ অবদানের কথা স্মরণ করে গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রদত্ত পত্র অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনকৃত তাদের গৈলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি চূড়ান্তভাবে জাতীয়করণের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের ৫ একর ৫৫ শতক জায়গাসহ নির্মিত ভবনসমুহ, গাছপালা, আসবাবপত্র, স্থাবর-অস্থাবরসহ সরকারী মূল্য হিসেবে ১০ কোটি ২৩ লাখ ১৬ হাজার ৬ শ’ ১৭ টাকার মূল্যের সম্পত্তি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক দাতা হিসেবে স্বাক্ষর করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) এর বরাবরে ৯ অক্টোবর (রবিবার) আগৈলঝাড়ায় ভারপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার এমএ জলিল ‘ডিড অফ গিফট’ দলিল সম্পাদন করেন।  যার দলিল নং- ১৭০০।

উল্লেখিত সম্পত্তি হস্তান্তরের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জিও প্রদানের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হবে। সচিব বরাবরে দলিল সম্পাদনের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস সচিবের পক্ষে (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) দলিল গ্রহণ করেন। এসময় তাঁর অফিসে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

১২৫ বছর আগে শিক্ষানুরাগী কৈলাশ চন্দ্র সেন ১৮৯৩ সালের ২৩ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর কৈলাশ চন্দ্র সেন নিজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থেকে বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যর রূপ প্রদান করেন। কালক্রমে গৈলা বিদ্যাপীঠ হয়ে ওঠে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, সংস্কৃতি চর্চা ও জেলার মধ্যে রাজনীতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ভগ্নিপতি ’৭৫এর ১৫ আগস্টে শহীদ মন্ত্রী আ. রব সেরনিয়াবাতের সেরাল গ্রামের বাড়িতে থাকা অবস্থায় শৈশবে এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন।

দলিল হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস, দলিলের পরিচিতি স্বাক্ষ্যদাতা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আ. রইচ সেরনিয়াবাত, দলিলের স্বাক্ষী উপজেলা আওয়ামী লীগ সমন্বয়ক আবু সালেহ মো. লিটন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন সরদার, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু।

অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক সরদার, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি কেএম আজাদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক তপন বসু, উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি এ্যাড. আবুল কাশেম সরদার, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার দাড়িয়া, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড আহ্বায়ক আবদুল্লাহ লিটন, আ’লীগ নেতা মানিক মোল্লা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত বিদ্যালটিতে বর্তমানে ১৯ জন শিক্ষক, ৩ জন ৩য় শ্রেণী ও ৪ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীসহ মোট ২৮ জন স্টাফ ও ১৪০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

এবিএন/অপূর্ব লাল সরকার/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ