মতলবে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৪

চাঁদপুরের মতলবে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে চলতি বছরে আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশানুরূপ ফলন ও ন্যায্যমূল্য পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে আখের চাষ হয়েছিল ১৫০ হেক্টর। আর চলতি মৌসুমে আখের চাষ হয়েছে ১৬০ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে জাত (বিআরআই-৪১) ৯০ হেক্টর ও (বিআরআই-৪২) ৭০ হেক্টর। এ ছাড়া মেস্ত্রিমালা ও অমৃত জাতের আখের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি আখের জমিতে উৎপাদন হয় ৮০ মেঃ টন। সেচ প্রকল্পের উঁচু জমিগুলো পলি ও দো-আঁশ মাটির পরিমাণ বেশি থাকায় আখের ফলন ভালো হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চাহিদার চেয়েও মূল্য বেশি পেয়ে কৃষকরা একদিকে যেমন খুশি, অন্যদিকে প্রতি বছরই আখ চাষের দিকে কৃষকরা ঝুঁকছে।

উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ফরাজীকান্দি, হলদিয়া, লেদামদী, মাথাভাঙ্গা, পাঁচআনী, কলাকান্দা, হানিরপাড়, গজরা, ছেংগারচর, কেশাইরকান্দি, কালিপুর, নিশ্চিন্তপুর, শিকিরচর, বারআনী, নান্দুরকান্দি, লবাইরকান্দি, বেগমপুর ও ফতেপুর ঘনিয়ার পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় আখের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এখন আখ তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাজারগুলোর পাশাপাশি শহরের পাইকারদের কাছে কৃষকরা আখ বিক্রি করছে। চাঁদপুর, কুমিল্লা, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পাইকাররা এসে মিনি ট্রাক ও ট্রলারযোগে আখ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা প্রতিটি আখ পাইকারি ১০/১২ টাকা বিক্রি করলেও খুচরা বিক্রেতারা বিক্রি করছেন ২০-৪০ টাকা দরে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, জমিতে আখ কেনার পর জমি থেকে উত্তোলন ও বিক্রি পর্যন্ত অনেক খরচ। অনেক সময় লোকসান দিতে হয়।

হানিরপাড় গ্রামের আখ চাষী বাবুল মিয়া জানান, আমাদের এলাকায় ১০/১২ বছর আগে ব্যাপকভাবে আখ চাষ হতো। কিন্তু তখন কৃষক ১টি আখ ২/৩ টাকায়ও বিক্রি করতে পারতো না। কৃষকের খরচ উঠতো না বলে মাঝখানে আখের আবাদ কমে গিয়েছিলো। এখন ফলন ভালো হয়, দামও ভালো। এ এলাকায় গুড় তৈরি হতো না। এখন গুড় তৈরি হচ্ছে। আখ চাষে আমরা এখন লাভবান হওয়ায় চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন বলেন, সেচ প্রকল্প নির্মাণের পর এ এলাকায় ব্যাপক আখের চাষ হয়েছে। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকরা আখ চাষে ঝুঁকছে।

এবিএন/শ্যামল চন্দ্র দাস/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ