রেকটিফাইট স্পিরিট বিক্রেতাসহ গ্রেফতার ৩

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৫৪

মুন্সীগঞ্জ থানার প্রায় ২০০গজ দক্ষিণে বাজার সংলগ্ন মেইন রোডে মুন্সীগঞ্জ হোমিও হলে র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ৯৯% রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রেতা হুমায়ুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

উদ্ধারকৃত ৯৯% রেকটিফাইড স্পিরিটের পরিমান ৭৫০ লিটার। যার আনুমানিক মুল্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা।  এসময় কারখানা থেকে এইটটি (আঞ্চলিক নাম) তৈরীর নানা সরঞ্জামও উদ্ধার করে র‌্যাব।

আজ ০৬ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় র‌্যাব-১১ এ অভিযান চালায়। গ্রেফতারকৃত অন্যান্যরা হলো বরিশাল জেলার তেতলা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (২২) ও পিরোজপুর জেলার পুটিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৫।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাব-১১, সিপিসি-১, মুন্সিগঞ্জের কোম্পানী কমান্ডার এ.এস.পি মো. মহিতুল ইসলাম।

দীর্ঘদিন যাবৎ বরিশাল জেলার তেতলা গ্রামের অধিবাসী মো. হুমায়ুন কবীর  কৌশলে মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্র বাজার রোডে একটি পুরানো ভবনে ৩টি রুম ভাড়া নিয়ে মুন্সীগঞ্জ হোমিও হল সাইন বোর্ড ব্যবহার করে অবৈধ ৯৯% রেকটিফাইড স্পিরিট থেকে নিজ কারখানায় ছোট আকৃতির বোতল তৈরি করে তা বাজারজাত করে আসছিল। সে স্বঘোষিত ডিলার হিসেবে জেলার সর্বত্র এই বোতল সরবরাহ করত বলে একটি সূত্র জানায়।

কারখানায় এক লিটার স্পিরিট থেকে পিউর ওয়াটার মিশিয়ে প্রায় ৫০০টি ৫০এমএল বোতল তৈরি করতো বলে জানা যায়। প্রতি বোতলের দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা খুচরা ও পাইকারী হিসেবে বিক্রি করতো।

তার ভাষ্যমতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার বোতল বিক্রি হতো। জানা যায় এসব বোতলের শতকরা ৮০% খরিদদার ছিল উঠতি বয়সের যুবক। বাকিরা হলো রিক্সাচালক, অটোচালক, তরকারি বিক্রেতা ও ড্রাইভার শ্রেণির লোক।

হুমায়ুন কবীর এ ব্যবসা চালাতে গিয়ে প্রভাবশালী নানা মহলের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে বলে একটি সূত্র জানায়। দীর্ঘদিন যাবৎ তার এ কর্মকান্ডের প্রতি শহরবাসী প্রতিবাদ মুখর হলেও অদৃশ্য কারণে নাকের ডগায় এ ব্যবসা চললেও প্রশাসন যেন ছিল নিরব। থানার প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে ছিল এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানাটি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানায়, বিকেল চারটার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানের সামনে মৌমাছির মতো ভীড় জমাতো সেবনকারীরা। তার গ্রেফতারের সংবাদে অনেককেই স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

র‌্যাব-১১ এর মুন্সীগঞ্জ কোম্পানি কমান্ডার মোঃ মহিতুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের পর এবং উক্ত দোকান থেকে খরিদদার হিসেবে ৯৯% রেকটিফাইড স্পিরিট ক্রয় করে তা ঢাকা ল্যাবে পরীক্ষা করেই এ গ্রেফতার অভিযানে নামি।

এবিএন/আতিকুর রহমান টিপু/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ