রাণীনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের সাংবাদিক সম্মেলন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:৫৫

নওগাঁর রাণীনগরে লটারীর ড্র অনুষ্ঠানে গুলি এবং ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাণীনগর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন উপজেলার গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খান হাসান।  অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করার দাবিতে এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রাণীনগর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার বেতগাড়ী উদয়ন ক্রীড়া সংসদের উদ্দ্যোগে গত ২৪ আগস্ট বার্ষিক ফুটবল ফাইনাল খেলা ও লটারীর (র‌্যাফেল ড্র) আয়োজন করা হয়।  অনুষ্ঠিত ফুটবল খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন, নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম।

পরে রাত অনুমান সাড়ে ৮টার দিকে উদয়ন ক্রীড়া সংসদের সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় লটারীর ড্র।  সেখানে তিনি নিজেই মাইক নিয়ে স্বচ্ছভাবে লটারীর ফলাফল ঘোষনা করছিল।  ১২ তম পুরস্কারের ড্র হওয়ার সময় কয়েকটি পটকা ফুটানোর মত শব্দ শুনতে পেলে মাইকে বলা হয় কোন ভাবেই আতশবাজী ব্যবহার করা যাবে না।

এসময় হঠাৎ করে মঞ্চে ১২/১৩ বছর বয়সের একটি ছেলে পরে যায়।  প্রথমে সবাই মনে করেছিল সে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে, কিন্তু ছেলেটিকে তোলার পর সবাই দেখতে পায় তার মাথায় গুলি লেগেছে। গুলির কথা শুনেই দ্রুত লটারী বন্ধ ঘোষনা করে ছেলেটিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়া মঞ্চে থাকা সকল মালামাল নিরাপদ স্থানে পৌছে দেওয়ার জন্য গ্রাম পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিজ দ্বায়িত্বে গুলিবৃদ্ধ ছেলের চিকিৎসার খোঁজ-খবর, থানার ষ্টাফদের, ক্লাবের সদস্য ও সাংবাদিকদের সাথে দফায় দফায় কথা বলতে তার মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিন মোবাইল ফোন অন করেই তিনি জানতে পারেন, পুলিশ তার গ্রামের বাড়িতে কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশ রাব্বি নামের এক স্থানীয় ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে।

এ খবর জানার পর তিনি রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে কথা বলেন, আটক রাব্বি’র ব্যাপারে, তার সাথে কথা বলার আধা ঘন্টার মধ্যে নওগাঁ জেলা ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন।  পরে তিনি জানতে পারেন ১৬৪ ধারার জবান-বন্দিতে তাকে, তার ছেলে, ভাই ফরহাদ হোসেনসহ এলাকার নিরিহ ছেলেদেরকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।  তার ধারণা, চেয়ারম্যান হওয়ার পর এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে তিনি জিরো-টলারেন্স ঘোষনা করার কারণে তাকে উদ্দেশ্যে করেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

সদ্য জামিনে মুক্তি পাওয়া চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খান হাসান সাংবাদিক সম্মেলনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন, কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে উক্ত হামলার ঘটনাটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধী ও পরিকল্পনাকারিদের আইনের আওতায় আনাসহ তার নিজের ও পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার দাবি জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলার আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান পিন্টু, কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু ও একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম।

এবিএন/এ বাশার (চঞ্চল)/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ